মাতৃভাষা নিয়ে উক্তি হলো নিজের ভাষার প্রতি ভালোবাসা, গর্ব এবং আত্মপরিচয়ের অনুভূতিকে সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। একটি শক্তিশালী উক্তি খুব অল্প কথায় গভীর অর্থ তুলে ধরে এবং মানুষকে ভাষার গুরুত্ব বোঝাতে সাহায্য করে।
মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের উপায় নয়, এটি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও শিকড়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করে। তাই এসব উক্তিতে আবেগ, সম্মান ও দায়িত্ববোধের কথা থাকে। যেমন, “মাতৃভাষাই আমার প্রথম পরিচয়” বা “ভাষা বাঁচলে জাতি বাঁচে”। এমন উক্তি মানুষকে নিজের ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে অনুপ্রাণিত করে।
মাতৃভাষা নিয়ে উক্তি
মায়ের ভাষায় কথা বলা আর মায়ের কোলে মাথা রাখা একই সমান প্রশান্তির। যার নিজের ভাষার প্রতি মমতা নেই, তার কাছে দেশপ্রেম আশা করা বৃথা।
মাতৃভাষা হলো সেই আলোকবর্তিকা, যা দিয়ে একজন মানুষ তার অন্ধকার হৃদয়ে শিক্ষার আলো জ্বালতে পারে। ভাষাই মানুষের চিন্তার প্রধান বাহন।
যে ব্যক্তি তার মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে, সে আসলে নিজের শেকড়কেই অস্বীকার করে। শেকড়হীন মানুষ কোনোদিন সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে না।
মাতৃভাষা মানুষের জন্মগত অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে একটি জাতির প্রাণ কেড়ে নেওয়া। তাই ভাষাকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
একজন মানুষকে যদি আপনি এমন ভাষায় কথা বলেন যা সে বোঝে, তবে তা তার মস্তিষ্কে যায়। কিন্তু যদি তার মাতৃভাষায় বলেন, তবে তা সরাসরি তার হৃদয়ে পৌঁছায়। (নেলসন ম্যান্ডেলা)
বিশ্বের সব ভাষাই সুন্দর, কিন্তু মায়ের ডাকের মতো মিষ্টি সুর কোনো বিদেশি ভাষায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। মাতৃভাষাই আমাদের প্রকৃত পরিচয়।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয় না যদি না তা মাতৃভাষায় অর্জন করা যায়। নিজের ভাষায় শিক্ষা অর্জন করাটা অনেকটা স্বচ্ছ আয়নায় নিজেকে দেখার মতো।
বাংলা আমার তৃষ্ণা, বাংলা আমার প্রাণ। এই ভাষার প্রতিটি বর্ণমালার মাঝে লুকিয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের হাসি-কান্না আর বীরত্বগাথা।
মাতৃভাষা হলো প্রতিটি মানুষের আত্মার সুর। এই সুর যখন কেউ কেড়ে নিতে চায়, তখনই জাতি হিসেবে আমরা গর্জে উঠি। ভাষার জন্য মৃত্যুকে বরণ করা পরম গৌরবের।
অন্য ভাষা শেখা গৌরবের, কিন্তু নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া চরম লজ্জার। নিজের ঘর অন্ধকার রেখে অন্যের ঘরে মোমবাতি জ্বালানো বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
মাতৃভাষা কেবল কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের রক্ষাকবচ। ভাষাকে ভালোবাসুন, তবেই জাতি হিসেবে আমরা টিকে থাকব।
মায়ের মুখের বুলি আর মাঠের সোঁদা গন্ধ এই দুইয়ের মিশে থাকা রূপই হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। এর চেয়ে পবিত্র আর কিছুই হতে পারে না।
যাঁরা মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার কাজ করেন, তাঁরা আসলে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। সাহিত্য আর সংস্কৃতির মাধ্যমেই একটি ভাষা চিরকাল বেঁচে থাকে।
প্রতিটি বর্ণমালা একেকটি নক্ষত্র, আর আমাদের মাতৃভাষা হলো সেই আকাশ। এই আকাশে ডানা মেলে উড়তে শেখাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা।
অজ্ঞতা দূর করতে মাতৃভাষার বিকল্প নেই। নিজের ভাষায় যখন কেউ জ্ঞান চর্চা করে, তখন তার সৃষ্টিশীলতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
ভাষার শুদ্ধতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অপসংস্কৃতির ভিড়ে নিজের প্রিয় বর্ণমালা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
মাতৃভাষা হলো সেই শেকড় যা আমাদের মাটির সাথে যুক্ত রাখে। পৃথিবীর যেখানেই যাই না কেন, এই ভাষার টান আমাদের বারবার শেকড়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
একজন কবির শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার মাতৃভাষা। এই ভাষায় যখন মনের ভাব প্রকাশ করা হয়, তখন তা অমর কাব্যে পরিণত হয়।
ভাষার জন্য জীবন দেওয়া বাঙালি জাতির এক অনন্য ইতিহাস। এই আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় কীভাবে নিজের সত্তাকে সবার উপরে স্থান দিতে হয়।
মাতৃভাষা হলো সেই সেতু যা প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটায়। পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া জ্ঞান আমরা এই ভাষার মাধ্যমেই উত্তরাধিকার হিসেবে পাই।
যে ভাষায় মা আমাদের ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে শোনাতেন, সেই ভাষাকে কোনোদিন তুচ্ছ মনে করবেন না। মাতৃভাষা হলো প্রতিটি মানুষের প্রথম ভালোবাসা।
জ্ঞানের সাগর বিশাল হতে পারে, কিন্তু সেই সাগরে সাঁতার কাটার শক্তি জোগায় আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। ভাষাই আমাদের মানসিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি।

মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা মানে হলো নিজের মায়ের প্রতি অবহেলা। একটি উন্নত জাতি হতে হলে আগে নিজের ভাষাকে সম্মান দিতে শিখতে হবে।
পৃথিবীর সব ভাষাই শ্রদ্ধার যোগ্য, কিন্তু মাতৃভাষা হলো প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এই বন্ধুর হাত কোনোদিন ছেড়ে দেবেন না।
ভাষার লড়াই কেবল ১৯৫২-তে শেষ হয়নি, বরং শুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমে এই লড়াই প্রতিদিন চালিয়ে যেতে হবে। ভাষাই আমাদের ত্যাগের স্মারক।
মায়ের ভাষা যার মুখে খেই হারিয়ে ফেলে, তার ব্যক্তিত্বও একদিন বিলীন হয়ে যায়। নিজের ভাষার শক্তিকে বুঝুন এবং এর মর্যাদা রক্ষা করুন।
মাতৃভাষা হলো সেই কুঠুরি যেখানে একটি জাতির চিন্তা, আবেগ আর দর্শনের অমূল্য রত্নগুলো সংরক্ষিত থাকে। এই ভাণ্ডার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ হওয়া উচিত মাতৃভাষা। যখন কোনো শিশু নিজের ভাষায় শিখতে শুরু করে, তখন তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভাষার কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই, কিন্তু মাতৃভাষা আমাদের একটি নির্দিষ্ট মানচিত্রের সাথে একাত্ম করে রাখে। এটিই আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
মাতৃভাষা হলো সেই সুর যা কখনো পুরনো হয় না। এটি আমাদের অতীতের সাথে বর্তমানের আর বর্তমানের সাথে ভবিষ্যতের যোগসূত্র স্থাপন করে।
নিজের ভাষার গান শুনলে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা বিশ্বের অন্য কোনো সুর দিতে পারে না। মাতৃভাষা আমাদের প্রশান্তির এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
ভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব তখনই, যখন আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সঠিক ভাষা চর্চা করব।
মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় সুগভীর মননশীলতা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। চিন্তা যখন নিজের ভাষায় বিকশিত হয়, তখন তা পূর্ণতা পায়।
মায়ের আঁচলের মতো মাতৃভাষাও আমাদের আগলে রাখে। জীবনের সব ঝড়-ঝাপটায় নিজের ভাষায় কথা বলাই হলো সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস।
ভাষার বিবর্তন হবেই, কিন্তু তার মূল সুরটি যেন কখনো নষ্ট না হয়। মাতৃভাষার স্বকীয়তা বজায় রাখা প্রতিটি সচেতন মানুষের কর্তব্য।
বাংলা ভাষা আমার অহংকার। এই ভাষার জন্য আমাদের বীর সন্তানেরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরকাল।
মাতৃভাষা মানে কেবল শব্দ নয়, এটি একটি অনুভূতি। এই অনুভূতির কোনো অনুবাদ হয় না, এটি কেবল হৃদয়ে অনুভব করতে হয়।
মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে কোনো জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জাপানি বা জার্মানদের দিকে তাকালে আমরা এর প্রমাণ পাই।
মায়ের ভাষায় কথা বললে যে মমতা আর টান অনুভব করা যায়, তা অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মাতৃভাষা হলো সেই লতা যা আমাদের সংস্কৃতির বৃক্ষকে জড়িয়ে থাকে। এই লতা শুকিয়ে গেলে সংস্কৃতিও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
নিজের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তৈরি হয় আত্মমর্যাদা। যে নিজের ভাষাকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, সে নিজেকেও ভালোবাসতে পারে না।
মাতৃভাষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক পরিচয়। এই পরিচয় মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই, যদি না আমরা নিজে থেকে তা বিসর্জন দিই।
ভাষার লড়াই ছিল অস্তিত্বের লড়াই। আজ সেই ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে, যা আমাদের জন্য চরম গৌরবের।
মাতৃভাষা হলো সেই প্রদীপ যা শিক্ষার পথকে আলোকিত করে। এই প্রদীপের তেল হলো আমাদের সাহিত্য আর সলতে হলো আমাদের শুদ্ধ চর্চা।
নিজের ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ আর সঠিক ব্যবহারই হলো মাতৃভাষার প্রতি সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। ভাষার অপপ্রয়োগ থেকে দূরে থাকুন।
মাতৃভাষা হলো সেই মেঘ যা আমাদের হৃদয়ে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে আর মনকে সজীব করে তোলে। এর সতেজতা চিরকাল বজায় থাকুক।
একটি জাতির উন্নয়নের মাপকাঠি হলো তার মাতৃভাষার সমৃদ্ধি। যত বেশি সাহিত্য চর্চা হবে, জাতি তত বেশি উন্নত হবে।
মাতৃভাষা হলো বাঙালির প্রধান শক্তি। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সব বিজয়ের মূলে ছিল আমাদের এই প্রিয় ভাষার টান আর ভালোবাসা।
পরিশেষে এটাই সত্য মাতৃভাষা আমাদের জননী। জননী ও জন্মভূমি যেমন স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, মাতৃভাষাও আমাদের কাছে ঠিক তেমনই অমূল্য।
বাংলা ভাষা নিয়ে উক্তি
বাংলা ভাষা আমার তৃষ্ণা, বাংলা ভাষা আমার প্রাণ। এই ভাষার প্রতিটি বর্ণমালার মাঝে লুকিয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের হাজার বছরের হাসি-কান্না আর বীরত্বগাথা।
মায়ের মুখের বুলি আর মাঠের সোঁদা গন্ধ এই দুইয়ের মিশে থাকা রূপই হলো আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা। এর চেয়ে পবিত্র আর কিছুই হতে পারে না।
রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটি কেবল একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
বাংলা ভাষা হলো সেই সুর যা কখনো পুরনো হয় না। এটি আমাদের অতীতের সাথে বর্তমানের আর বর্তমানের সাথে ভবিষ্যতের যোগসূত্র স্থাপন করে।
অন্য ভাষা শেখা গৌরবের হতে পারে, কিন্তু নিজের প্রিয় বাংলা ভাষাকে ভুলে যাওয়া চরম লজ্জার। নিজের ঘর অন্ধকার রেখে অন্যের ঘরে মোমবাতি জ্বালানো বোকামি।
বাংলা ভাষার শুদ্ধতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অপসংস্কৃতির ভিড়ে নিজের প্রিয় বর্ণমালা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
আমার বর্ণমালা, আমার অহংকার। বাংলা ভাষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের শেকড়ের কথা এবং ভাষার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয় না যদি না তা মাতৃভাষা বাংলায় অর্জন করা যায়। নিজের ভাষায় শিক্ষা অর্জন করাটা অনেকটা স্বচ্ছ আয়নায় নিজেকে দেখার মতো।
বাংলা ভাষা কোনো সাধারণ ভাষা নয়, এটি লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা এক পবিত্র আমানত। একে অবজ্ঞা করা মানে আমাদের ইতিহাসকেই অপমান করা।
বিশ্বের সব ভাষাই সুন্দর, কিন্তু মায়ের ডাকের মতো মিষ্টি সুর কোনো বিদেশি ভাষায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। বাংলা ভাষাই আমাদের প্রকৃত পরিচয়।
ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। একমাত্র বাঙালি জাতিই তা করে দেখিয়েছে। এই আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে বাঁচতে।
সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারের স্মৃতি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জোগায়। বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে কেবল তাঁদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে।
৫২-র সেই উত্তাল দিনে যারা বুকের তাজা রক্তে রাঙিয়েছিলেন ঢাকার রাজপথ, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্যই আজ আমরা সগৌরবে বাংলায় কথা বলছি।
শহীদ মিনার আমাদের ত্যাগের প্রতীক, আর বাংলা ভাষা আমাদের সাহসের উৎস। ত্যাগের মহিমায় এই ভাষা আজ বিশ্বের বুকে ভাস্বর।
বাংলা ভাষার লড়াই কেবল ১৯৫২-তে শেষ হয়নি; বরং শুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমে এই লড়াই প্রতিদিন চালিয়ে যেতে হবে। ভাষাই আমাদের ত্যাগের শ্রেষ্ঠ স্মারক।
রক্তের অক্ষরে লেখা বাংলা ভাষার ইতিহাস কোনোদিনও মুছে যাওয়ার নয়। এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রথম সূর্যোদয়।
ফাল্গুনের শিমুল-পলাশ আজ শহীদদের রক্তের রঙে আরও লাল হয়ে ফুটেছে। বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার, আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।
সালাম সেই বীরদের, যারা রাজপথে প্রাণ দিয়ে আমাদের মুখে ভাষা ফুটিয়েছিলেন। বাংলা ভাষার চেতনায় জাগ্রত হোক প্রতিটি বাঙালি হৃদয়।
ব্যালট পেপার যেমন রাজনৈতিক অধিকার, বাংলা বর্ণমালা তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক অধিকার। এই অধিকার আমরা রক্ত দিয়ে কিনেছি।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি এই একটি বাক্যেই মিশে আছে বাংলা ভাষার প্রতি বাঙালির আজন্ম আবেগ আর সংগ্রাম।
রবীন্দ্রনাথের গান আর নজরুলের কবিতা বাংলা ভাষাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা বিশ্বের অন্য যেকোনো ভাষার কাছে এক অনন্য বিস্ময়।
বাংলা ভাষা হলো সেই সেতু যা প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটায়। চর্যাপদ থেকে আজকের সাহিত্য সবই এই ভাষার ঐশ্বর্য।
বাংলা ভাষা হলো একটি জাতির আত্মার আয়না। এই আয়নায় তাকালে আমরা আমাদের প্রকৃত রূপ আর সমৃদ্ধ ইতিহাস দেখতে পাই।
একটি জাতির উন্নয়নের মাপকাঠি হলো তার মাতৃভাষার সমৃদ্ধি। যত বেশি বাংলা সাহিত্য চর্চা হবে, জাতি তত বেশি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত হবে।
একজন কবির শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষায় যখন মনের ভাব প্রকাশ করা হয়, তখন তা অমর কাব্যে পরিণত হয়।
বাংলা ভাষার ললিতা-কলা আর লোকজ সংস্কৃতি আমাদের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এই বন্ধুর হাত কোনোদিন ছেড়ে দেবেন না।
মাতৃভাষা বাংলা হলো প্রতিটি মানুষের আত্মার সুর। এই সুর যখন কেউ কেড়ে নিতে চায়, তখনই জাতি হিসেবে আমরা অমর হয়ে উঠি।
শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ আর সঠিক ব্যবহারই হলো এই ভাষার প্রতি সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। ভাষার অপপ্রয়োগ থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।

মা, মাটি আর মাতৃভাষা এই তিনের প্রতি টান যার নেই, তার মনুষ্যত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক। বাংলা আমাদের প্রাণের স্পন্দন।
বাংলা আমার তৃষ্ণা, বাংলা আমার প্রাণ। এই ভাষার প্রতিটি বাঁকে আমি আমার মা-মাটি-মানুষের গন্ধ খুঁজে পাই।
আকাশের নীল রঙটা আমার খুব প্রিয়, কিন্তু বাংলা বর্ণমালার কালো অক্ষরগুলো আমার কাছে তার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল।
মায়ের ভাষায় কথা বললে যে মমতা আর টান অনুভব করা যায়, তা অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
নিজের ভাষার গান শুনলে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা বিশ্বের অন্য কোনো সুর দিতে পারে না। বাংলা ভাষা আমাদের শান্তির নিরাপদ নীড়।
যে ভাষায় মা আমাদের ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে শোনাতেন, সেই বাংলা ভাষাকে কোনোদিন তুচ্ছ মনে করবেন না। এটি আমাদের প্রথম প্রেম।
বাংলা ভাষা হলো সেই প্রদীপ যা শিক্ষার পথকে আলোকিত করে। এই প্রদীপের তেল হলো আমাদের সাহিত্য আর সলতে হলো আমাদের শুদ্ধ চর্চা।
পরিশেষে এটাই সত্য—বাংলা ভাষা আমাদের জননী। জননী ও জন্মভূমি যেমন স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, বাংলা ভাষাও আমাদের কাছে ঠিক তেমনই অমূল্য।
প্রতিটি বাংলা বর্ণমালা একেকটি নক্ষত্র, আর আমাদের ভাষা হলো সেই অনন্ত আকাশ। এই আকাশে উড়তে শেখাই হলো প্রকৃত সার্থকতা।
মায়ের আঁচলের মতো বাংলা ভাষাও আমাদের আগলে রাখে। জীবনের সব ঝড়-ঝাপটায় নিজের ভাষায় কথা বলাই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি।
বাংলা ভাষা হলো সেই লতা যা আমাদের সংস্কৃতির বৃক্ষকে জড়িয়ে থাকে। এই লতা শুকিয়ে গেলে বাঙালির প্রাণটাই শুকিয়ে যাবে।
নিজের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তৈরি হয় আত্মমর্যাদা। যে নিজের ভাষাকে শ্রদ্ধা করতে জানে না, সে নিজেকেও ভালোবাসতে পারে না।
ভাষার লড়াই ছিল অস্তিত্বের লড়াই। আজ সেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় সিক্ত, যা আমাদের জন্য পরম গৌরবের।
মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবহেলা মানে হলো নিজের মা আর মাটির প্রতি অবহেলা। উন্নত জাতি হতে হলে নিজের ভাষাকে সম্মান দিতে হবে।
বাংলা ভাষা বাঙালির প্রধান শক্তি। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সব বিজয়ের মূলে ছিল আমাদের এই প্রিয় ভাষার টান আর দেশপ্রেম।