কথা বলা নিয়ে উক্তিগুলো সাধারণত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিত্ব, চিন্তা ও মূল্যবোধের প্রকাশ। সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলা যেমন সম্পর্ক গড়ে তোলে, তেমনি অসাবধানী কথা ভুল বোঝাবুঝি ও কষ্টের কারণ হতে পারে।
তাই অনেক উক্তিতে সংযম, ভদ্রতা ও সত্যনিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। কম কথা বললেও তা যেন অর্থবহ হয়, আর বেশি বললেও যেন সম্মান বজায় থাকে। ভেবে কথা বলা মানুষকে প্রজ্ঞাবান করে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। সংক্ষেপে, কথা আমাদের শক্তি, তাই এটিকে সচেতনভাবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কথা বলা নিয়ে উক্তি
কথা বলা মানুষের ব্যক্তিত্বের আয়না। সুন্দর কথা বলা একটি শিল্প যা মানুষকে অন্যের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। নিচে কথা বলা নিয়ে বাছাই করা ৫০টি উক্তি দেওয়া হলো:
সুন্দরভাবে কথা বলা মানেই অর্ধেক কাজ সেরে ফেলা। আপনার কথা আপনার ভেতরের আসল মানুষকে অন্যের সামনে তুলে ধরে।
মিষ্টভাষী মানুষ সবার প্রিয় হয়। রুক্ষ ভাষা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয় আর মধুর ভাষা শত্রুতা মিটিয়ে বন্ধু তৈরি করে।
চুপ থাকা মানেই হেরে যাওয়া নয়। মাঝেমধ্যে নিরবতা হাজারো অনর্থক কথার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অর্থবহ হয়ে থাকে।
কথা বলার সময় শ্রোতার চোখের দিকে তাকান। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায় এবং কথার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।
মিথ্যা কথা বলে সাময়িক জয় পাওয়া যায় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা সম্মান নষ্ট করে। সবসময় স্পষ্ট এবং সত্য কথা বলুন।
যে নিজের কথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পরিমিত কথা বলা চরিত্রের দৃঢ়তা বাড়ায়।
অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবুন। গঠনমূলক আলোচনা সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটায় কিন্তু পরনিন্দা অশান্তি ডেকে আনে।
আপনার কন্ঠস্বর যেন অন্যের জন্য বিরক্তির কারণ না হয়। নিচু স্বরে কথা বলা ভদ্রতার বহিঃপ্রকাশ এবং একটি বিশেষ গুণ।
কথা দিয়ে কাউকে স্বপ্ন দেখানো সহজ কিন্তু সেই কথা রক্ষা করা কঠিন। তাই যা পারবেন না তা নিয়ে কথা দেবেন না।
জ্ঞানীরা আগে শোনেন তারপর বলেন। কথা বলার চেয়ে শোনার অভ্যাস মানুষের শেখার পরিধিকে আরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
রাগের মাথায় কথা বলবেন না। সেই সময় বলা কথাগুলো পরে আপনাকে অনুশোচনায় ভোগাতে পারে। নিজেকে শান্ত রেখে কথা বলুন।
যুক্ত দিয়ে কথা বলুন চিৎকার দিয়ে নয়। বৃষ্টির পানিতে ঘাস জন্মায় কিন্তু বজ্রপাতে নয়। তাই কথার গভীরতা বাড়ান।
অহেতুক তর্ক করা থেকে বিরত থাকুন। তর্ক বুদ্ধিমান মানুষকেও বোকা বানিয়ে দেয়। তর্কের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই অনেক বেশি কার্যকর।
শিশুদের সাথে কথা বলার সময় কোমলতা বজায় রাখুন। আপনার কথা তাদের বেড়ে ওঠায় এবং মানসিক বিকাশে বড় প্রভাব ফেলে।
নিজের প্রশংসা নিজে করবেন না। আপনার কাজ এবং ব্যবহারের মাধুর্যই মানুষের কাছে আপনার প্রশংসা করার সুযোগ করে দেবে।

গীবত বা পরচর্চা থেকে জবানকে হেফাজত করুন। অন্যের বদনাম করা মানে নিজের ব্যক্তিত্বকে ছোট করা এবং পাপ বাড়ানো।
হাসিমুখে কথা বলা একটি মহৎ গুণ। আপনার সামান্য একটু হাসি এবং মিষ্টি কথা কারো বিষণ্ণ দিনকে উজ্জ্বল করতে পারে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বললে কথার মর্যাদা কমে যায়। কথা হবে ছোট কিন্তু অর্থ হবে অনেক গভীর ও প্রভাবশালী।
বড়দের সাথে কথা বলার সময় সম্মান বজায় রাখুন। আদব এবং কায়দা আপনার পারিবারিক শিক্ষার পরিচয় বহন করে।
নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ান তবে তা নিয়ে কথা বলার সময় বিনয় হারাবেন না। পাণ্ডিত্য দেখানোর চেয়ে বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দর উপস্থাপনা সাধারণ কথাকেও অসাধারণ করে তোলে। তাই কথা বলার ধরণ এবং বাচনভঙ্গির দিকে বিশেষ নজর দিন।
আপনার প্রতিটি কথা যেন সৎ উদ্দেশ্যে হয়। কপটতা মেশানো কথা সাময়িকভাবে কাজে দিলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করে।
অপ্রাসঙ্গিক কথা এড়িয়ে চলুন। প্রসঙ্গে থেকে কথা বলা একজন সুশৃঙ্খল মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়।
কারো বিপদের সময় সান্ত্বনার কথা বলা অনেক বড় সাহসের কাজ। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে কথার ভূমিকা অতুলনীয়।
যুক্তিহীন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। তথ্যের ভিত্তি ছাড়া কোনো কিছু বললে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা জনসম্মুখে কমে যাবে।
প্রতিটি দিন শেষে নিজের বলা কথাগুলো নিয়ে একটু ভাবুন। ভুল শুধরে নিলে আগামীকালের কথা বলা আরও সুন্দর হবে।
পরিবারের মানুষের সাথে সময় নিয়ে কথা বলুন। আপনার সুন্দর কথাগুলোই ঘরকে শান্তিময় ও স্বর্গীয় করে তুলতে পারে।
অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলার সময় সংযত থাকুন। প্রথম আলাপেই কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
কথা বলার মাধ্যমে মানুষের ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব। নীরব থেকে দূরত্ব না বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে আসুন।
আপনার কথা যেন কারো অশ্রুর কারণ না হয়। শব্দ দিয়ে মানুষকে আঘাত করা শারীরিক আঘাতের চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
কম কথা বলা নিয়ে উক্তি
জ্ঞানী মানুষরা সবসময় কম কথা বলেন কারণ তারা জানেন যে প্রতিটি শব্দের একটি নির্দিষ্ট মূল্য আছে। অপ্রয়োজনীয় কথা কেবল মানুষের ব্যক্তিত্বকে হালকা করে দেয় এবং সময় নষ্ট করে।
চুপ থাকা মানেই পরাজয় নয় বরং এটি একটি শক্তিশালী গুণ। বুদ্ধিমানরা তখনই মুখ খোলেন যখন তাদের কথা নীরবতার চেয়েও বেশি অর্থবহ এবং শক্তিশালী হয়ে মানুষের হৃদয়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
কম কথা বলা মানুষকে অনেক বিপদমুক্ত রাখে। জিহ্বাকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে নিজের জীবনকেও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না। তাই কথা বলার আগে নিজের শব্দগুলো নিয়ে ভাবুন।
আপনার নীরবতা অনেক সময় হাজারো তর্কের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে। যারা কম কথা বলেন তারা অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে পারেন এবং পৃথিবীটাকে অনেক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান।
বেশি কথা বললে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পক্ষান্তরে পরিমিত কথা বলা আপনার আভিজাত্য এবং গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে। সবসময় চেষ্টা করুন সারগর্ভ কথা বলে নিজের ব্যক্তিত্বকে সবার সামনে তুলে ধরতে।
শব্দ খরচ করার আগে বিচার করুন সেগুলো কারো উপকারে আসবে কিনা। যদি আপনার কথা কারো মনে কষ্ট দেয় তবে চুপ থাকাই শ্রেয়। নীরবতা অনেক সময় অনেক বড় ইবাদত হিসেবে গণ্য।
যারা কম কথা বলেন তাদের কথার ওজন অনেক বেশি হয়। যখন তারা কোনো মন্তব্য করেন তখন চারপাশের মানুষ মন দিয়ে শোনে। বাচালতা মানুষের প্রতি অন্যদের আকর্ষণ এবং শ্রদ্ধা কমিয়ে দেয়।
মৌনতা হলো জ্ঞানের অলঙ্কার। একজন মূর্খ ব্যক্তিও ততক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞানী হিসেবে পরিচিত থাকতে পারেন যতক্ষণ তিনি চুপ থাকেন। তাই নিজের অজ্ঞতা ঢাকতে হলেও কম কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কম কথা বলা মানেই অহংকার নয় বরং এটি একটি পরিশীলিত মননের পরিচয়। আপনি যত কম কথা বলবেন আপনার চিন্তাশক্তি তত বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আরও বেশি সক্ষম হবেন।
কথা দিয়ে কাউকে মুগ্ধ করার চেয়ে নিজের কাজ দিয়ে প্রমাণ করা অনেক বেশি শ্রেয়। যারা শুধু কথা বলে তারা কাজ কম করে আর যারা কাজ করে তারা নিরবে এগিয়ে যায়।
আপনার জিহ্বা যেন আপনার বুদ্ধির আগে না চলে। কথা বলার আগে চিন্তা করা হলো বিচক্ষণতা আর চিন্তা না করে কথা বলা হলো বোকামি। তাই সবসময় কথা বলার ক্ষেত্রে সংযমী হোন।
নীরবতা হলো একটি শিল্প যা সবাই রপ্ত করতে পারে না। জীবনের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান কেবল চুপ থেকেই করা সম্ভব। তর্কের চেয়ে নীরবতা বজায় রাখা অনেক বেশি সম্মানজনক এবং কার্যকর।
কম কথা বলা আপনার ভেতরের শক্তিকে সঞ্চয় করে রাখে। অপ্রাসঙ্গিক তর্কে জড়িয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করবেন না। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু কথা বলাই হলো একজন প্রকৃত আদর্শ মানুষের লক্ষণ।
জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাদের কথা দিয়ে নয় বরং তাদের নীরবতা দিয়ে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেন। আপনি যদি জীবনকে বুঝতে চান তবে শব্দের চেয়েও নৈশব্দের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন এবং নিজেকে সংযত রাখুন।
পৃথিবীর সব প্রশ্নের উত্তর মুখে দিতে হয় না। কিছু উত্তর সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। নীরবতা অনেক সময় অপমানের সবচেয়ে বড় এবং উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবে কাজ করে।
কথা বলা সহজ কিন্তু নীরবতা পালন করা কঠিন। যিনি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে চুপ থাকতে পারেন তিনিই প্রকৃত বিজয়ী। পরিমিত কথা বলা আপনার চরিত্রের দৃঢ়তাকে সবার কাছে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
সমাজ তাদেরই বেশি সম্মান করে যারা মেপে কথা বলেন। বাচালতা মানুষকে হাসির পাত্র বানায় আর গাম্ভীর্য মানুষকে শ্রদ্ধার আসনে বসায়। তাই নিজের মান ধরে রাখতে কম কথা বলার বিকল্প নেই।
কম কথা বলা মানে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ পাওয়া। আপনি যখন চুপ থাকেন তখন নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। এই অন্তর্দৃষ্টি আপনাকে জীবনের সঠিক পথে চলতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।
বেশি কথা বললে মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। আপনি যত বেশি বলবেন তত বেশি অসত্য বেরিয়ে আসার ভয় থাকে। তাই সত্য ও স্পষ্ট কথা অল্পতে শেষ করা হলো একজন সৎ মানুষের ধর্ম।
আপনার প্রতিটি শব্দ একটি বীজের মতো। অহেতুক কথা বলে আগাছা জন্ম দেওয়ার চেয়ে চুপ থেকে শান্তি বজায় রাখা ভালো। কেবল প্রয়োজনেই কথা বলুন এবং সেই কথা যেন অন্যের উপকারে আসে।
সফল মানুষেরা কথা কম বলেন এবং অন্যের কথা বেশি শোনেন। শোনার অভ্যাস আপনাকে নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করবে আর কথা বলা আপনাকে পুরনো তথ্যের মধ্যেই আটকে রাখবে। তাই নীরব হোন।
তর্কের সময় চুপ থাকা মানে আপনি হেরে গেলেন তা নয়। বরং এর অর্থ হলো আপনি সেই পরিস্থিতির চেয়েও অনেক বেশি বড় এবং ম্যাচিউর। অপ্রয়োজনীয় বিতণ্ডা এড়িয়ে চলাই হলো শ্রেষ্ঠ নৈতিকতা।
কথা কম বললে মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। যারা সারাক্ষণ কথা বলেন তারা গভীর কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন না। ধীরস্থিরভাবে কথা বলা আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
জিহ্বা হলো শরীরের সেই অঙ্গ যা সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনে। তাই একে সংযত রাখাই হলো প্রকৃত বীরত্ব। কম কথা বলে আপনি নিজেকে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে দূরে রাখতে পারেন।
প্রতিটি মানুষের সাথে কথা বলার প্রয়োজন নেই। কিছু মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে নীরব থাকাই হলো মানসিক প্রশান্তির চাবিকাঠি। কথা বলার আগে অবশ্যই পরিবেশ এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি কাজ।

আপনি যদি চান মানুষ আপনার কথার গুরুত্ব দিক তবে কথা বলা কমিয়ে দিন। দুষ্প্রাপ্য জিনিসের মূল্য যেমন বেশি ঠিক তেমনি কম কথা বলা মানুষের বাণীর গুরুত্বও সবার কাছে অনেক বেশি।
একটি সুন্দর নীরবতা হাজারো মিথ্যে অজুহাতের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ। নিজের ভুল ঢাকতে কথা না বাড়িয়ে চুপ থেকে ভুল স্বীকার করে নেওয়া এবং শিক্ষা গ্রহণ করাই হলো একজন প্রকৃত মানুষের পরিচয়।
বেশি কথা বললে শক্তি অপচয় হয়। সেই শক্তিকে নিজের সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করুন। কম কথা বলা মানুষরা সাধারণত অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং লক্ষ্যস্থির হয় যা তাদের সফলতার পথে দ্রুত এগিয়ে নেয়।
আপনার মুখ খোলার আগে নিশ্চিত হোন যে আপনার কথা নীরবতার চেয়েও সুন্দর। যদি তা না হয় তবে চুপ থাকাই আপনার জন্য উত্তম। সৌন্দর্য কেবল চেহারায় নয় কথা ও আচরণেও থাকে।
কম কথা বলা বিনয়ের একটি বহিঃপ্রকাশ। একজন বিনয়ী মানুষ সবসময় অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেন এবং নিজে কম বলে পরিবেশকে শান্ত রাখেন। এই গুণটি মানুষকে সামাজিকভাবে অনেক বেশি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে।
হৃদয়ের ভাষা বুঝতে হলে শব্দের প্রয়োজন হয় না। যারা আপনাকে বোঝেন তারা আপনার নীরবতা দেখেই সব বুঝে নেবেন। আর যারা বোঝেন না তাদের কাছে হাজারো কথা বলেও কোনো লাভ হবে না।
জীবনকে সহজ করতে চাইলে কম কথা বলার অভ্যাস করুন। যত বেশি কথা বলবেন তত বেশি জটিলতা তৈরি হবে। সরল জীবন এবং পরিমিত আলাপই সুখী হওয়ার অন্যতম প্রধান এবং সহজতম গোপন মন্ত্র।
কথা বলার চেয়ে কাজ করে দেখানো অনেক বেশি কার্যকর। যারা বড় বড় কথা বলে তারা আসলে কিছুই করতে পারে না। তাই নিজের লক্ষ্য নিয়ে চুপচাপ কাজ করে যান এবং সফলতা অর্জন করুন।
আপনার নীরবতা আপনার আত্মসম্মানকে রক্ষা করে। যে স্থানে আপনার কথার মূল্য নেই সেখানে চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। অযোগ্য মানুষের সামনে নিজের মুক্তোর মতো কথাগুলো খরচ করে নিজেকে ছোট করবেন না।
কম কথা বলা একটি আধ্যাত্মিক সাধনা। এটি মানুষকে ধৈর্যশীল হতে শেখায়। রাগ বা উত্তেজনার মুহূর্তে মুখ বন্ধ রাখা আপনাকে অনেক বড় ভুল বা দুর্ঘটনা থেকে চিরদিনের জন্য রক্ষা করতে পারে।
বাচালতা হলো মনের অগভীরতার লক্ষণ। যার চিন্তা যত গভীর তার কথা তত কম এবং সারগর্ভ। নিজেকে একজন গভীর এবং চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে শব্দ ব্যবহারে অনেক বেশি সচেতন হোন।
সুন্দর আচরণ এবং কম কথা বলা মানুষের ব্যক্তিত্বকে মোহনীয় করে তোলে। আপনি যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলেন না তখন মানুষ আপনার সম্পর্কে কৌতূহলী হয় এবং আপনার উপস্থিতিকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে শেখে।
নীরবতা হলো জ্ঞানের দরজা। আপনি যখন চুপ থাকেন তখন মহাবিশ্বের অনেক রহস্য আপনার সামনে উন্মোচিত হয়। ধ্যানমগ্ন এবং শান্ত থাকাই হলো জীবনের চরম সত্য উপলব্ধি করার একমাত্র সঠিক এবং কার্যকর পথ।
কথার মাধ্যমে আপনি কাউকে জয় করতে পারেন আবার কাউকে সারা জীবনের জন্য হারাতেও পারেন। তাই শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকুন। কম কথা বলা আপনাকে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে দূরে রাখতে বিশেষ সাহায্য করবে।
যার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে নেই তার চরিত্রও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আত্মসংযমের প্রথম ধাপ হলো কথা বলা কমিয়ে দেওয়া। এটি আপনাকে একজন দৃঢ় চরিত্রের মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।
কম কথা বলা মানে অলসতা নয় বরং এটি হলো ভাবনার গভীরতা। আপনি যখন কথা বলা কমিয়ে দেন তখন আপনার মস্তিষ্ক অনেক বেশি সচল হয় এবং আপনি নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে ভাবতে পারেন।
অহেতুক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নীরব থাকা অনেক সময় সবচেয়ে বড় উত্তর হিসেবে গণ্য হয়। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সবসময় কথা বলার প্রয়োজন নেই। আপনার ব্যক্তিত্বই আপনার হয়ে সব কথা বলে দেবে।
কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করা কঠিন কিন্তু নীরবতা দিয়ে মানুষের মনে শ্রদ্ধা তৈরি করা সহজ। যারা কম কথা বলেন তারা সাধারণত অনেক বেশি বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হন।
যারা কম কথা বলেন তাদের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত আকর্ষণ থাকে। তাদের রহস্যময় ব্যক্তিত্ব মানুষকে আকৃষ্ট করে। বেশি কথা বলে নিজের সব রহস্য ফাঁস করে দেবেন না বরং কিছু বিষয় নিজের মধ্যেই রাখুন।
নীরবতা হলো ক্লান্ত মনের ওষুধ। সারাদিনের ব্যস্ততা আর শব্দের ভিড়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় নীরব থাকা খুব জরুরি। এটি আপনার মানসিক ক্লান্তি দূর করে আপনাকে নতুন করে কাজ করার প্রেরণা যোগাবে।
কম কথা বলা হলো আভিজাত্যের প্রতীক। রাজকীয় চালচলন মানে কেবল পোশাক নয় বরং আপনার কথা বলার ধরণও। আপনি যত পরিমিত এবং মার্জিতভাবে কথা বলবেন আপনাকে তত বেশি অভিজাত ও শিক্ষিত মনে হবে।
কথা বলার সময় অহংকার যেন প্রকাশ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। অহংকারী মানুষের কথা কেউ পছন্দ করে না। বিনয়ী হয়ে কম কথা বলা আপনাকে সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলবে।
পৃথিবীর সব সমস্যার মূল হলো কথা। আমরা যদি অর্ধেক কথা বলা কমিয়ে দিতাম তবে পৃথিবীর অর্ধেক সমস্যা এমনিতেই মিটে যেত। শান্তি বজায় রাখতে এবং বিবাদ এড়াতে কম কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
আপনার কথা যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়। যারা বেশি কথা বলেন মানুষ তাদের এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু যারা কম কথা বলেন তাদের কথা শোনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে।
পরিশেষে নিজের জিহ্বাকে শাসন করুন নতুবা এটি আপনাকে শাসন করবে। কম কথা বলা এবং সুন্দর চিন্তা করাই হলো একজন সফল এবং সার্থক মানুষের জীবনের মূল চাবিকাঠি। সবসময় পরিমিত ও সত্য বলুন।
এই ছিলো আমাদের আজকের কথা বলা নিয়ে উক্তি, আশা করছি আমাদের দেওয়া বাংলা ক্যাপশন গুলো ভালো লেগেছে।