পরিবারের অবহেলা নিয়ে উক্তিগুলো মানুষের গভীর মানসিক কষ্ট ও নিঃসঙ্গতার অনুভূতিকে প্রকাশ করে। পরিবার যেখানে ভালোবাসা ও নিরাপত্তার আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে অবহেলা পেলে তা হৃদয়ে বড় আঘাত সৃষ্টি করে। এসব উক্তিতে বোঝানো হয়, সম্পর্ক টিকে থাকে যত্ন, বোঝাপড়া ও সম্মানের মাধ্যমে। অবহেলা মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়, তবে একই সঙ্গে নিজের শক্তি খুঁজে নিতে শেখায়। তাই এমন উক্তি আমাদের সচেতন করে, পরিবারে ভালোবাসা ও দায়িত্ব বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের অবহেলা নিয়ে উক্তি
বাইরের দুনিয়ার আঘাত সহ্য করা সহজ, কিন্তু নিজের পরিবারের অবহেলা মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে বিষাক্ত করে দেয় এবং নিঃস্ব করে তোলে চিরতরে।
পরিবারের অবহেলা হলো সেই নীরব কান্না, যা শোনার মতো কেউ থাকে না এবং এই হাহাকার মানুষকে তিলে তিলে একা ও মানসিক বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয় প্রতিনিয়ত।
যাদের আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তুচ্ছতাচ্ছিল্য আপনার অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং আপনাকে এক গভীর অন্ধকারের গহ্বরে নিয়ে যায় খুব দ্রুত।
পরিবার যখন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল হওয়ার বদলে অবহেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই মানুষটির জন্য পুরো পৃথিবীটাই এক বিশালাকার নির্জন মরুভূমি বলে মনে হয়।
রক্তের সম্পর্কের মানুষেরা যখন অবহেলা করে, তখন মনে হয় নিজের ছায়াও বুঝি বিশ্বাসঘাতকতা করছে, যা মানুষকে পৃথিবীর কোনো সম্পদ বা প্রাপ্তি দিয়ে সান্ত্বনা দিতে পারে না।
অবহেলিত সন্তান বা সদস্য হয়ে বেঁচে থাকা মানে হলো প্রতিদিন নিজের ঘরের মধ্যেই পরবাসী হওয়া, যেখানে আপনার উপস্থিতি কারো কাছেই কোনো আনন্দ বা গুরুত্ব বহন করে না।
পরিবারের অবহেলা মানুষকে পাথর করে দেয়, কারণ যেখান থেকে মায়া পাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে কেবল অবজ্ঞা আর অবমূল্যায়নই জোটে ভাগ্যের এক চরম নির্মম পরিহাসে।
সবচেয়ে বড় একাকীত্ব হলো ভরা মজলিসে বা নিজের পরিবারের মাঝে থেকেও নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করা এবং সবার মাঝে থেকেও একাকী এক শূন্যতা অনুভব করা সবসময়।
পরিবার যখন আপনার যোগ্যতাকে অস্বীকার করে এবং ক্রমাগত অবহেলা দেখায়, তখন নিজের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখাটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও কঠিন এক যুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষের অবহেলা সহ্য করা যায়, কিন্তু যখন বাবা-মা বা ভাই-বোনেরা অবজ্ঞা করে, তখন সেই ক্ষত কোনোদিনও কোনো ওষুধ বা ভালো ব্যবহারে পুরোপুরি সেরে যায় না।
নিজের ঘরে যখন কেউ আপনার মনের খবর নেয় না, তখন বাইরের মানুষের মায়ার অভিনয়গুলোও অনেক বেশি সত্য বলে মনে হয় এবং মানুষ ভুল পথে পরিচালিত হয়।
পরিবারের অবহেলা আমাদের শেখায় যে, রক্ত এক হলেও মন সবার এক হয় না; স্বার্থ যখন ভালোবাসার ওপরে ওঠে, তখন আত্মীয়তাও ফিকে হয়ে যায় এক নিমেষেই।
যাদের সাথে আপনি এক টেবিলে খাবার খান, তাদের কাছ থেকে অবহেলা পাওয়া মানে হলো প্রতিটি গ্রাসে এক চিমটি বিষ পান করা, যা আত্মাকে মারতে থাকে।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা মানে হলো প্রতিদিন নিজের আত্মসম্মানকে বিসর্জন দেওয়া, তবুও মানুষ মুখ বুজে সব সহ্য করে কেবল সম্পর্কের মায়ায় পড়ে থেকে যায় চিরকাল।

আপনার ছোট ছোট সাফল্যগুলো যারা উদযাপন করতে জানে না, সেই পরিবারের মানুষেরা আপনাকে ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদে আগলে রাখবে না, এটিই জীবনের রূঢ় সত্য।
পরিবারের অবহেলা মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেয় ঠিকই, কিন্তু এর বিনিময়ে কেড়ে নেয় শৈশবের সরলতা আর সুন্দর এক সোনালী ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন ও সম্ভাবনা।
যাদের আপনি হৃদয়ের মণিকোঠায় রেখেছেন, তাদের অবহেলা সহ্য করা মানে হলো নিজের কলিজায় নিজ হাতে আগুন দেওয়া, যা নিভানোর মতো কোনো শক্তি আপনার থাকে না।
পরিবার যখন আপনাকে বোঝা মনে করে, তখন বুঝতে হবে আপনার মায়ার জগতটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে এবং আপনার নিজের জন্য নতুন পথ খোঁজা এখন অনিবার্য।
অবহেলিত মানুষগুলোই দিনশেষে সবচেয়ে বেশি শক্ত মনের অধিকারী হয়, কারণ তারা নিজের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া নিষ্ঠুরতা সহ্য করে একাই লড়ে বাঁচতে শিখে যায়।
পরিবারের অবহেলা মানুষকে বাস্তববাদী করে তোলে, কিন্তু এর ফলে মানুষ মায়া-মমতা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ওপর চিরতরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে যা এক অপূরণীয় মানসিক ক্ষতি।
যাদের জন্য আপনি জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের অবহেলা আপনার ত্যাগের সবচেয়ে বড় অপমান এবং এটি আপনাকে চরমভাবে হতাশ ও তিক্ত করে তোলে।
নিজের পরিবারের অবজ্ঞা সহ্য করে যারা জীবনে সফল হয়, তাদের জয়গাথা অনেক বেশি উজ্জ্বল হলেও সেই সাফল্যের মাঝেও পরিবারের প্রতি এক গোপন অভিমান থেকে যায়।
পরিবার যখন আপনার কষ্টের কথা শুনতেও অনীহা দেখায়, তখন একা থাকাই শ্রেয়, কারণ দেয়ালের সাথে কথা বললেও অন্তত অবহেলার শিকার হওয়ার ভয় থাকে না।
রক্তের সম্পর্ক দিয়ে কেবল জন্ম হয়, কিন্তু আপন হতে গেলে মায়ার প্রয়োজন হয়; পরিবারে সেই মায়ার অভাব থাকলেই অবহেলা ডালপালা মেলতে শুরু করে খুব দ্রুত।
পরিবারের অবহেলা মানুষের হাসিকে কেড়ে নেয় এবং চোখের কোণে জমা করে একরাশ নোনা জল, যা কেউ দেখতে পায় না আর দেখার চেষ্টাও কেউ করে না।
যাদের কাছে আপনি আপনার সব গোপন কথা শেয়ার করতে পারতেন, তাদের অবহেলা আপনাকে নিজের মধ্যেই নিজেকে বন্দি করে ফেলতে বাধ্য করে এক গভীর নীরব অভিমানে।
পরিবার যখন আপনাকে অন্যের সাথে তুলনা করে এবং আপনাকে ছোট করে দেখে, তখন তারা আপনার উন্নতির পথ নয় বরং আপনার পতনের রাস্তা তৈরি করে দেয়।
সবচেয়ে বিষাক্ত হলো সেই পরিবার, যেখানে একে অপরের সমালোচনা করা হয় কিন্তু বিপদে পড়লে কেউ কারো পাশে দাঁড়ানোর নুন্যতম মানসিকতা বা ইচ্ছা দেখায় না।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে, পৃথিবীতে নিজের জন্য নিজেকেই লড়তে হবে এবং নিজের শান্তি অন্য কারো অনুমতির ওপর নির্ভর করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
যাদের আপনি আপনার আকাশ ভেবেছিলেন, তাদের অবহেলা আপনার পুরো পৃথিবীকে অন্ধকার করে দেয় এবং আপনি নিজেকে এক বিশাল শূন্যতার মাঝে আবিষ্কার করেন প্রতিটি মুহূর্তে।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা হলো এক ধরণের নীরব আত্মহত্যা, কারণ মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে তার বাঁচার ইচ্ছা আর মনের সব উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে থাকে।
যদি পরিবার আপনাকে সম্মান দিতে না জানে, তবে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য মঙ্গলজনক, কারণ সম্মানহীন সম্পর্কে কোনো প্রকৃত ভালোবাসা থাকে না।
পরিবার যখন আপনার উপস্থিতিকে গ্রাহ্য করে না, তখন তাদের অনুপস্থিতিতেই আপনি সবচেয়ে বেশি শান্তি পাবেন, কারণ সেখানে অন্তত অবহেলার শিকার হওয়ার যন্ত্রণাটুকু আর নেই।
অবহেলিত মানুষগুলো এক সময় নীরব হয়ে যায়, তারা আর কারো কাছে কিছু দাবি করে না বরং নিজের দুঃখকে সাথী করে নিয়ে একাকী পথ চলতে অভ্যস্ত হয়।
পরিবারের অবহেলা মানুষকে শেখায় যে, কাছের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতবিক্ষত করতে পারে এবং সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণগুলো ঘর থেকেই সাধারণত শুরু হয়ে থাকে সবসময়।
যাদের আদর আর শাসনে আপনার বড় হওয়ার কথা ছিল, তাদের অবহেলা আপনার ব্যক্তিত্বকে অসম্পূর্ণ করে রেখে দেয় এবং আপনাকে সমাজ ভীতিতে ভোগাতে শুরু করে প্রতিনিয়ত।
পরিবার যখন আপনার চোখের জল মুছে দেওয়ার বদলে সেই কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্পর্কের পবিত্রতা চিরতরে বিলীন হয়ে যায় এক নিদারুণ কষ্টের মাঝে।
অবহেলার শিকার সদস্যটিই পরিবারের সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করে, অথচ সেই ত্যাগের মূল্য কারো কাছেই থাকে না, যা এক অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথা।

পরিবারের অবহেলা আপনাকে নিজের মূল্য বুঝতে বাধ্য করে, কারণ যখন কাছের মানুষ আপনাকে অগ্রাহ্য করে, তখনই আপনি বুঝতে পারেন নিজের জন্য নিজেকে ভালোবাসা কতটা জরুরি।
যাদের মায়া দিয়ে আপনার জীবন পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, তাদের অবহেলা আপনার জীবনকে এক বিরান ভূমিতে পরিণত করে যেখানে কেবল দুঃখের কাঁটাগাছ বেড়ে ওঠে সারাক্ষণ।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা মানে হলো প্রতিক্ষণ নিজের স্বপ্নগুলোর মৃত্যু দেখা, কারণ আপনার কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাই তাদের কাছে কোনোদিনও কোনো মূল্য পায় না।
রক্তের দোহাই দিয়ে যারা আপনাকে দিনের পর দিন অবহেলা করে যাচ্ছে, তাদের ক্ষমা করা যায় কিন্তু তাদের সাথে আগের মতো মায়ার সম্পর্কে জড়ানো কোনোদিনও সম্ভব নয়।
পরিবার যখন আপনার জীবনের সব সিদ্ধান্ত নিতে চায় অথচ আপনার আবেগ বুঝতে চায় না, তখন সেই নিয়ন্ত্রণই অবহেলার এক আধুনিক ও নামান্তর রূপ হিসেবে প্রকাশ পায়।
অবহেলিত হওয়া মানে এই নয় যে আপনি অযোগ্য, বরং এর মানে হলো আপনি ভুল কিছু মানুষের মাঝে আছেন যারা আপনার প্রকৃত মূল্য বুঝতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে নিজের ভেতরের সত্তাকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে এবং আপনাকে মানসিকভাবে আরও অনেক বেশি কঠোর ও অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলে আজীবন।
যাদের আপনি প্রাণ দিয়ে সেবা করেছেন, তাদের অবহেলা আপনাকে শেখায় যে প্রতিদান পাওয়ার আশা রাখাটাই ছিল আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ভুল ধারণা।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করতে করতে মানুষ এক সময় পাষাণ হয়ে যায়, তখন আর কোনো দুঃখই তাকে স্পর্শ করতে পারে না এবং সে এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততায় বাস করে।
নিজের ঘরে যখন পর হয়ে বেঁচে থাকতে হয়, তখন বাইরের বাতাসও অনেক বেশি আরামদায়ক মনে হয় এবং মানুষ অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর সাহস সঞ্চয় করে।
পরিবারের অবহেলা আপনার চরিত্রের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে এবং আপনাকে শিখিয়ে দেয় কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাথা উঁচু করে নিজের মতো করে বাঁচতে হয় বীরের মতো।
যাদের সাথে আপনি রক্ত শেয়ার করেছেন কিন্তু ভালোবাসা পাননি, তাদের অবহেলা অগ্রাহ্য করে নিজের একটা আলাদা জগত তৈরি করে নেওয়াটাই হবে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে একা চলতে বাধ্য করে ঠিকই, কিন্তু এটি আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সেই চরম ও পরম শিক্ষা দেয় যা অন্য কোথাও থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।
অবহেলিত হওয়ার স্মৃতিগুলো মানুষকে তাড়া করে বেড়ায় সারাজীবন, যা মানুষকে কোনোদিনও সম্পূর্ণভাবে সুখী হতে দেয় না এবং মনের এক কোণে সবসময় বিষণ্ণতা জমিয়ে রাখে।
পরিবার যখন আপনাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, তখন তাদের প্রমাণ দেওয়ার বদলে নিজের কাজে মগ্ন হয়ে যান; আপনার সাফল্যই হবে তাদের অবহেলার যোগ্য ও সঠিকতম প্রতিদান।
অবহেলার সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে মানুষ এক সময় তীরের সন্ধান পায়, সেই তীর হলো নিজের শান্তি ও সম্মান যা পরিবারের বাইরে থেকেও খুঁজে নেওয়া সম্ভব অনায়াসে।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা বড় কঠিন কাজ, তবে এটি আপনাকে মহৎ হতে শেখায় যদি আপনি তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ না করে নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে পারেন।
যাদের আপনি বটবৃক্ষের মতো আগলে রাখতে চেয়েছিলেন, তাদের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয় এবং প্রতিটি মানুষই আসলে দিনশেষে বড়ই স্বার্থপর।
পরিবারের অবহেলা আপনার হৃদয়ে যে হাহাকার তৈরি করে, তা পৃথিবীর কোনো গান বা কবিতা দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়, কারণ এই যন্ত্রণা কেবল অনুভবের বিষয়।
যাদের উপস্থিতিতে আপনার আনন্দ পাওয়ার কথা ছিল, তাদের অবহেলা আপনাকে বিষণ্ণতার এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করে যেখান থেকে ফিরে আসা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য ও দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে বাস্তববাদী হতে বাধ্য করে এবং আপনাকে শেখায় যে মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলা কঠিন হলেও নিজের আত্মমর্যাদার জন্য তা মাঝে মাঝে করা অনিবার্য।
অবহেলিত মানুষগুলো যখন একদিন অনেক বড় হয়ে যায়, তখন পরিবারের সেই একই মানুষগুলোই আবার মায়ার অভিনয় করে ফিরে আসে, যা জীবনের এক দারুণ কৌতুক ও রসিকতা।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা মানে হলো প্রতিনিয়ত নিজের আত্মার অপমান করা, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে দিন দিন ম্লান ও আত্মবিশ্বাসহীন করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে।
যাদের কাছে আপনি আপনার জীবনের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের অবহেলা আপনাকে জীবনের নিষ্ঠুর ধ্রুব সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় যা মেনে নেওয়া সত্যিই খুব দুরূহ।

পরিবারের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে রক্ত নয় বরং মানুষের কর্ম আর ব্যবহারই হলো সম্পর্কের আসল মাপকাঠি যা মানুষকে আজীবন একে অপরের সাথে বেঁধে রাখে।
অবহেলিত হওয়া মানে শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটি এক নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয় যেখানে আপনি কেবল নিজের জন্য বাঁচবেন এবং নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেবেন সারাক্ষণ।
পরিবার যখন আপনার কষ্টের ভাগ নিতে চায় না, তখন তাদের খুশিতে আপনি কেন আনন্দিত হবেন? এই প্রশ্নটিই এক সময় অবহেলিত মানুষের মনে দানা বাঁধতে শুরু করে তিলে তিলে।
অবহেলার শিকার মানুষগুলোই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা, কারণ তারা নিজের ঘরের ভেতর পরাজয় বরণ করেও বাইরের দুনিয়ায় নিজের বিজয় নিশান উড়ানোর স্বপ্ন দেখে প্রতিদিন অবিরাম।
পরিবারের অবহেলা আপনার মনে যে দাগ কেটে দেয়, তা সময়ের সাথে হয়তো হালকা হয় কিন্তু কোনোদিনও সম্পূর্ণভাবে মুছে যায় না বরং দাগটি মনের ভেতর রয়েই যায়।
যাদের আপনি আপনার বেঁচে থাকার অবলম্বন ভেবেছিলেন, তাদের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে একা আসাই এবং একা যাওয়াই হলো জীবনের আসল ও পরম ধ্রুব সত্য।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা মানে হলো এক জীবন্ত লাশের মতো জীবন অতিবাহিত করা, যেখানে সব অনুভূতি মরে যায় এবং কেবল নিশ্বাস নেওয়াটুকুই অবশিষ্ট থাকে কোনোক্রমে।
অবহেলিত হওয়া আপনার দোষ নয়, বরং এটি তাদের ব্যর্থতা যারা আপনার মতো এক জন মূল্যবান মানুষকে চিনেও অবজ্ঞা করার স্পর্ধা দেখিয়েছে এই ক্ষণস্থায়ী তুচ্ছ জীবনে।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে নিজের ওপর দায়িত্ব নিতে শেখায় এবং আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য অন্য কারো অনুমোদনের বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।
যাদের আপনি আপন ভেবেছিলেন, তাদের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে শোষণ করাই হলো এই সমাজের এক অন্ধকার ও নোংরা বাস্তব দিক যা বদলানো খুব কঠিন।
পরিবারের অবহেলা থেকে বাঁচতে হলে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যান যাতে তাদের অবজ্ঞা আপনাকে আর স্পর্শ করতে না পারে বরং তারা আপনার সাফল্যের ছায়াতলে আশ্রয় চায়।
অবহেলিত হওয়ার যন্ত্রণা আপনাকে অনেক বেশি দয়ালু করে তুলতে পারে, কারণ আপনি জানেন অবহেলার কষ্ট কেমন, তাই আপনি অন্য কাউকে কখনো অবহেলা করতে পারেন না সহজে।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে জীবনের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে এবং আপনাকে শেখায় যে মায়া ত্যাগ করতে শিখলেই প্রকৃত স্বাধীনতা আর মানসিক প্রশান্তি অর্জন করা সম্ভব হয়।
যাদের আপনি পাহাড়ের মতো বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের অবহেলা আপনাকে শিখিয়ে দেয় যে মানুষের মন কাঁচের মতো ভঙ্গুর এবং এটি ভাঙতে কাছের মানুষদের বিন্দুমাত্র সময় লাগে না।
পরিবারের অবহেলা সহ্য করা বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়, তবে এটি আপনাকে ঈমানদার হতে সাহায্য করে কারণ আপনি তখন মানুষের বদলে কেবল স্রষ্টার ওপরই পূর্ণ ভরসা করতে শেখেন।
অবহেলিত হওয়ার স্মৃতিগুলো যখন আপনাকে কষ্ট দেবে, তখন মনে রাখবেন যে সূর্য একাই উদিত হয় এবং একাই জগতকে আলোকিত করে, আপনার একাকীত্বই আপনার আসল শক্তি।
পরিবারের অবহেলা আপনাকে পরিপক্ক করে তোলে এবং আপনাকে শেখায় কীভাবে আবেগের চেয়ে যুক্তি দিয়ে জীবনকে পরিচালনা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হয় প্রতিটি সময়।