অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে উক্তিগুলো আমাদের নৈতিক শিক্ষা ও জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে। অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি অন্যের উপকার সহজেই ভুলে যায় এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে না। ফলে সমাজে তার প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান কমে যায়। উক্তিগুলো মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে কৃতজ্ঞতা মানবিক গুণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। যে মানুষ উপকারের মূল্য বোঝে না, সে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে না এবং একসময় একাকী হয়ে পড়ে। অকৃতজ্ঞতা মানুষের চরিত্রকে সংকীর্ণ করে তোলে। তাই এসব উক্তির মাধ্যমে আমাদের কৃতজ্ঞ, নম্র ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়।
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে উক্তি
অকৃতজ্ঞ মানুষ হলো সেই গর্তের মতো, যেখানে আপনি যতই ভালোবাসার জল ঢালুন না কেন, তা কোনোদিনও পূর্ণ হবে না।
কিছু মানুষকে আপনি আকাশ সমান সাহায্য করলেও তারা আপনার একটি সামান্য ভুল খুঁজে বের করে সব উপকারের কথা ভুলে যাবে।
অকৃতজ্ঞতা হলো আত্মার এক প্রকার দারিদ্র্য; যার ভেতর এই গুণটি নেই, সে পৃথিবীর সব ঐশ্বর্য পেলেও কখনো সুখী হতে পারবে না।
সাপের মাথায় দুধ ঢাললে যেমন বিষ কমে না, অকৃতজ্ঞ মানুষের উপকার করলেও তার স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয় না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব কম হয়; তারা আপনার দেওয়া ত্যাগগুলো খুব দ্রুত ভুলে যায় কিন্তু আপনার সামান্য ত্রুটি মনে রাখে।
উপকার করলে উপকারীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা মানুষের পরিচয়, আর তা অস্বীকার করা অকৃতজ্ঞ পশুর স্বভাবের শামিল।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে চলার চেয়ে একাকী পথ চলা অনেক ভালো, কারণ তারা ছায়ার মতো সুসময়ে পাশে থাকে আর দুঃসময়ে হারিয়ে যায়।
অকৃতজ্ঞতা হলো ধারালো তলোয়ারের মতো, যা উপকারীর বিশ্বাসকে দ্বিখণ্ডিত করে এবং সম্পর্কের মূলে কুঠারাঘাত করে।
বনের পশুকে খাওয়ালে সে আপনার অনুগত হয়, কিন্তু অকৃতজ্ঞ মানুষকে সাহায্য করলে সে সুযোগ পেলেই আপনার ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের জন্য কষ্ট পাওয়া বোকামি; তারা আপনার ত্যাগের যোগ্য কোনোদিনই ছিল না এবং কোনোদিন হতেও পারবে না।
যাদের সাহায্য আপনি সবচেয়ে বেশি করবেন, দিনশেষে তাদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বড় আঘাত পাওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।
অকৃতজ্ঞতা একটি মানসিক ব্যাধি; এটি যার ভেতরে থাকে, সে কখনোই অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না।
মানুষের আসল চেহারা চেনা যায় স্বার্থ শেষ হওয়ার পর; তখনই বোঝা যায় সে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিল নাকি শুধু প্রয়োজনে সাথে ছিল।
অকৃতজ্ঞ মানুষের কাছে ভালোবাসা হলো অনেকটা ব্যবসার মতো; যতক্ষণ লাভ পায় ততক্ষণ সে আপনার সাথে থাকবে, তারপর অচেনা হয়ে যাবে।
অকৃতজ্ঞদের পেছনে সময় ব্যয় করবেন না; আপনার দেওয়া প্রতিটি সেকেন্ডই তাদের কাছে মূল্যহীন এবং তারা তা বুঝবে না।
পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো অকৃতজ্ঞ মানুষের বোঝা বহন করা; তারা আপনার ওপর চড়ে বসবে কিন্তু কখনো আপনাকে ধন্যবাদ দেবে না।
অকৃতজ্ঞতা মানুষের বিবেককে অন্ধ করে দেয়; তখন সে নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না এবং অন্যের শ্রম অস্বীকার করে।
অকৃতজ্ঞ মানুষকে বারবার সুযোগ দেওয়া মানে হলো নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা এবং নিজের সম্মানকে তাদের পায়ের নিচে সঁপে দেওয়া।
দান করলে গাছ যেমন ফল দেয়, তেমনি কৃতজ্ঞ মানুষ ভালোবাসা দেয়; কিন্তু অকৃতজ্ঞ মানুষ কেবল আপনার শাখা-প্রশাখা ভেঙে ধ্বংস করতে চায়।
অকৃতজ্ঞতা হলো সেই অন্ধকার, যা মানুষের অন্তরের সব আলো কেড়ে নেয় এবং তাকে স্বার্থপরতার সাগরে ডুবিয়ে দেয়।

আপনি যদি অকৃতজ্ঞ মানুষের উপকার করেন, তবে জেনে রাখুন আপনি আসলে নিজের অমঙ্গলকেই সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
অকৃতজ্ঞ মানুষ কখনোই আল্লাহর প্রিয় হতে পারে না; কারণ যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না, সে স্রষ্টার শুকরিয়াও আদায় করে না।
কাউকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে সে অকৃতজ্ঞ হয়ে ওঠার সুযোগ পায়; তাই মানুষের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবসময় সীমারেখা বজায় রাখা উচিত।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো সে কখনোই কোনো মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না।
শুকনো মরুর মতো কিছু হৃদয় থাকে; আপনি সেখানে ত্যাগের বৃষ্টি ঝরালেও তারা কখনো কৃতজ্ঞতার সবুজ ঘাস জন্ম দিতে পারে না।
অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কের ক্যান্সার; এটি একবার কোনো হৃদয়ে বাসা বাঁধলে পুরো সম্পর্ককে ধীরে ধীরে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলে।
অকৃতজ্ঞ মানুষের চোখে কেবল আপনার না করা কাজগুলোই পড়ে, আপনার করা হাজারো ভালো কাজ তারা খুব সহজেই এড়িয়ে যায়।
যাদের জন্য আপনি নিজের সব সুখ বিসর্জন দেবেন, তারাই একদিন বলবে—আপনি তাদের জন্য আসলে তেমন কিছুই করেননি।
অকৃতজ্ঞতা মানুষকে একাকী করে দেয়; কারণ দীর্ঘ সময় ধরে কেউ একজন স্বার্থপর মানুষের বোঝা বয়ে নিয়ে যেতে পারে না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের কাছে সত্যের চেয়ে নিজের সুবিধাই বেশি বড়; তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আপনার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।
কৃতজ্ঞতা একটি পবিত্র গুণ, যা কেবল মহৎ ব্যক্তিদের হৃদয়ে থাকে; সংকীর্ণমনা ও নিচু মনের মানুষেরা অকৃতজ্ঞ হয়েই জন্মায়।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে কথা বলা মানে হলো দেয়ালের সাথে কথা বলা; কোনো শব্দই তাদের হৃদয়ের গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
নিজের শান্তি চাইলে অকৃতজ্ঞদের প্রত্যাশা করা বন্ধ করুন; আপনি যখন প্রতিদান চাইবেন না, তখন তাদের অকৃতজ্ঞতা আপনাকে আর কষ্ট দেবে না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আপনার জীবনের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়; তাই তাদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অকৃতজ্ঞতা হলো একটি বিষাক্ত বীজ, যা বপন করলে কেবল তিক্ততাই ফল হিসেবে পাওয়া যায় এবং এটি সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করে।
যিনি আপনার ত্যাগের মূল্য বোঝেন না, তিনি আপনার সান্নিধ্য পাওয়ার যোগ্য নন; তাকে তার মতো থাকতে দেওয়াই হবে আপনার জন্য মঙ্গল।
অকৃতজ্ঞ মানুষের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না; মনে রাখবেন স্রষ্টা আপনার পরিশ্রম এবং ত্যাগের হিসাব ঠিকই রাখছেন।
অকৃতজ্ঞতা হলো সেই দেয়াল, যা মানুষ নিজের চারপাশে তৈরি করে এবং পরে একাকীত্বের যন্ত্রণায় নিজেই ছটফট করতে থাকে।
কিছু মানুষ আপনাকে ভালোবাসে শুধু তাদের প্রয়োজন মেটাতে; প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তারা আপনার নামটিও ভুলে যেতে সময় নেবে না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের মন কখনো বড় হয় না; তারা সবসময় অন্যের ভুল খুঁজে নিজেদের ছোট মানসিকতা ও হীনমন্যতাকে আড়াল করার চেষ্টা করে।
অকৃতজ্ঞদের উপকার করা ছেড়ে দিন, এতে অন্তত আপনার নিজের মানসিক শান্তি বজায় থাকবে এবং আপনি নতুন করে বাঁচতে পারবেন।
অকৃতজ্ঞতা হলো আগুনের মতো; এটি প্রথমে উপকারীর হৃদয় পোড়ায় এবং পরে অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির নিজের চরিত্রকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
মানুষের কৃতজ্ঞতা পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না; ভালো কাজ করুন নিজের তৃপ্তির জন্য, তাহলে অকৃতজ্ঞতা আপনাকে কখনো স্পর্শ করবে না।
অকৃতজ্ঞতার বিষে নীল হয়ে যাওয়ার চেয়ে স্বার্থপর মানুষের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা অনেক বেশি সম্মানের এবং আরামদায়ক।
যে অন্যের ত্যাগের কথা মনে রাখে না, সে আসলে নিজের মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছে; তাকে করুণা ছাড়া আর কিছু দেওয়ার নেই।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে আপনি যতই ভালো ব্যবহার করুন না কেন, দিনশেষে সে আপনাকে শত্রু মনে করবে যদি তার স্বার্থে আঘাত লাগে।
জীবন খুব ছোট, তাই অকৃতজ্ঞদের নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না; বরং কৃতজ্ঞদের ভালোবাসা দিয়ে নিজের পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তুলুন।
অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি
ইসলামে অকৃতজ্ঞতাকে গুরুতর নৈতিক ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়। ইসলামিক উক্তিগুলোতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। অকৃতজ্ঞ মানুষ আল্লাহর নেয়ামতের মর্যাদা বোঝে না। তাই ইসলাম কৃতজ্ঞতা ও শোকর আদায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে করেছে।
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে না, সে মহান আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না। (তিরমিজি)
অকৃতজ্ঞতা হলো ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ; কারণ একজন প্রকৃত মুমিন সবসময় তার রবের দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে।
মানুষের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া মানে হলো নিজের আমলনামাকে হালকা করা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে নেওয়া।
আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করে যারা অকৃতজ্ঞ থাকে, তারা আসলে নিজেদের ওপর নিজেরা জুলুম করে এবং আখিরাতে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে।
তুমি যদি কৃতজ্ঞ হও, তবে আল্লাহ তোমার নেয়ামত বাড়িয়ে দেবেন; আর অকৃতজ্ঞ হলে জেনে রেখো আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠোর। (সুরা ইবরাহিম)
অকৃতজ্ঞ মানুষ হলো সেই ব্যক্তি, যে অন্যের করা সামান্য উপকার ভুলে যায় কিন্তু নিজের ক্ষুদ্র পাওনা আদায়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না।
ইসলামের দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতা হলো অর্জিত সম্পদের সুরক্ষা আর অকৃতজ্ঞতা হলো সম্পদ ও সুখ হারিয়ে ফেলার অন্যতম প্রধান কারণ।
বিপদে সাহায্যকারীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া এক প্রকার মুনাফেকি; কারণ মুমিন কখনো কারো দয়া বা উপকারের কথা ভুলে যেতে পারে না।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করো না, কারণ যে তার স্রষ্টার প্রতি অনুগত থাকতে পারেনি, সে তোমার প্রতিও বিশ্বস্ত থাকবে না।
অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি কখনোই প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি পায় না; কারণ তার অন্তর সবসময় পাওয়ার অতৃপ্তিতে এবং অন্যের প্রতি হিংসায় নিমজ্জিত থাকে।
হাদিসে এসেছে, কৃতজ্ঞ অন্তরের অধিকারী হওয়া হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ লাভের সমান, যা অকৃতজ্ঞরা কখনোই বুঝতে সক্ষম হয় না।
অকৃতজ্ঞ হওয়া মানে হলো আল্লাহর বন্টনের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা, যা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি কাজ।
দুনিয়ার লোভে যারা মানুষের করা উপকার অস্বীকার করে, হাশরের ময়দানে তারা লজ্জিত হবে এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
অকৃতজ্ঞতা মানুষের রিজিক কমিয়ে দেয় এবং বরকত ছিনিয়ে নেয়; তাই সবসময় অল্পে তুষ্ট থেকে কৃতজ্ঞ থাকার চেষ্টা করা উচিত।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে না, সে আসলে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।
উপকারীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা ঈমানের অর্ধেক; তাই যারা অকৃতজ্ঞ, তাদের ঈমান কখনোই পূর্ণতা পায় না এবং তারা পথভ্রষ্ট হয়।
অকৃতজ্ঞতা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়; ফলে সে সত্য পথ দেখতে পায় না এবং অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করতে থাকে।
যারা মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, তাদের দোয়া অনেক সময় কবুল হয় না কারণ তারা আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে।
অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কৃপণ; কারণ সে একটি ‘ধন্যবাদ’ দিতেও কার্পণ্য করে, যা বলতে কোনো অর্থ বা শ্রম লাগে না।
আল্লাহ তায়ালা কৃতজ্ঞদের ভালোবাসেন এবং অকৃতজ্ঞদের ঘৃণা করেন; তাই সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকা প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করা ইবাদতের অংশ হতে পারে, যদি তা আপনাকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় থেকে বিচ্যুত করে ফেলে।
উপকার পেয়ে তা অস্বীকার করা জঘন্যতম অপরাধ; ইসলামে একে ‘কুফরানে নেয়ামত’ বা নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

অকৃতজ্ঞ মানুষের তওবা না করা পর্যন্ত তার অন্তর কলুষিত থাকে এবং সে ক্রমাগত অন্যের অধিকার হরণ করতে প্রলুব্ধ হয়।
যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, তারা কখনো মানুষের প্রতি অকৃতজ্ঞ হতে পারে না; কারণ তারা প্রতিটি ভালো কাজের পেছনে আল্লাহর ইচ্ছা দেখে।
অকৃতজ্ঞতা সমাজ ও পরিবারের বন্ধন নষ্ট করে দেয় এবং মানুষের মাঝে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দূরত্বের জন্ম দেয়।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, খুব কম মানুষই আছে যারা কৃতজ্ঞতা আদায় করে; তাই অকৃতজ্ঞদের দলে শামিল হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।
অকৃতজ্ঞ মানুষের সম্মান দুনিয়াতে সাময়িক হলেও পরকালে সে হবে চরম অপমানিত এবং তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে।
যে ব্যক্তি অন্যের কষ্টে আনন্দ পায় এবং উপকারের বিনিময়ে অপকার করে, তার চেয়ে বড় অকৃতজ্ঞ পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না।
অকৃতজ্ঞতা হলো এক প্রকার বিষ যা নিজের চরিত্রকে ধ্বংস করে এবং সমাজের শান্তিময় পরিবেশকে বিষাক্ত ও কলুষিত করে তোলে।
আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে সুখে-দুঃখে সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা করে এবং মানুষের ছোট উপকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানায়।
অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি সেই পশুর মতো যে কেবল নিজের পেট চেনে কিন্তু যে তাকে খাওয়ায় তাকে চেনে না বা সম্মান করে না।
মানুষের প্রতি দয়া করো এবং বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা আশা করো না; কারণ প্রতিদান দেওয়ার মালিক কেবল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।
অকৃতজ্ঞ হওয়া মানে হলো নিজের আকল বা বুদ্ধিকে বিসর্জন দেওয়া; কারণ বিবেকবান মানুষ কখনোই অন্যের ত্যাগের কথা ভুলতে পারে না।
অকৃতজ্ঞতা মানুষের চেহারার নূর বা জ্যোতি কেড়ে নেয় এবং তাকে মানুষের কাছে ঘৃণ্য ও অপদার্থ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
সবচেয়ে বড় অকৃতজ্ঞতা হলো আল্লাহর দেওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে তাঁরই অবাধ্য হওয়া এবং পাপে লিপ্ত থাকা।
যে মানুষের অনুগ্রহ মনে রাখে না, সে আসলে একটি মৃত দেহের সমান যার ভেতরে কৃতজ্ঞতার কোনো স্পন্দন বা প্রাণ নেই।
অকৃতজ্ঞদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করা একটি বড় ইবাদত; তবে তাদের অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া নিজেকে অপমান করার শামিল।
ইসলাম শিখিয়েছে খাওয়ার শেষেও শুকরিয়া আদায় করতে; সুতরাং যে সবক্ষেত্রে অকৃতজ্ঞ থাকে সে ইসলামের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত।
অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি কখনোই সফল হতে পারে না; কারণ তার ওপর থেকে আল্লাহর রহমত এবং মানুষের ভালোবাসা—উভয়ই উঠে যায়।
অকৃতজ্ঞতা মানুষকে একাকী করে দেয়; কারণ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নিঃস্বার্থ মানুষ অকৃতজ্ঞের ভার বইতে পছন্দ করে না।
মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো—সে সামান্য প্রাপ্তিতেও খুশি হয় এবং অকৃতজ্ঞ হওয়ার পরিবর্তে দাতার জন্য সবসময় প্রাণভরে দোয়া করে।
অকৃতজ্ঞতার কারণে পূর্ববর্তী অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে; সুতরাং তাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া আমাদের প্রত্যেকের জন্য জরুরি।
নিজের নফসকে কৃতজ্ঞ হতে শেখান, নতুবা অকৃতজ্ঞতা আপনার ভেতরে অহংকার জন্ম দেবে এবং আপনাকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাবে।
অকৃতজ্ঞ মানুষের হাসি মিথ্যা এবং তার সান্নিধ্য বিষাক্ত; তাই তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা নিজের ঈমান রক্ষার জন্য প্রয়োজন।
আল্লাহর নেয়ামতের গণনা করে শেষ করা যাবে না, তবুও মানুষ অকৃতজ্ঞ; এই চরম সত্যটি আমাদের সবসময় লজ্জিত হওয়া উচিত।
অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির কোনো আদর্শ নেই; সে কেবল নিজের স্বার্থের দাস এবং সুযোগ পেলেই সে তার হীন চরিত্র প্রকাশ করে ফেলে।
কৃতজ্ঞতা হলো জান্নাতের পথ আর অকৃতজ্ঞতা হলো আগুনের হাতছানি; আপনার কাজই ঠিক করে দেবে আপনি কোন পথে যাবেন।
অকৃতজ্ঞতা থেকে বাঁচতে হলে নিচের দিকে তাকাও, দেখবে তোমার চেয়েও অনেকে অনেক বেশি কষ্টে থেকেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছে।
হে আল্লাহ, আমাদের অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না এবং আমাদের অন্তরকে সর্বদা আপনার জিকির ও শুকরিয়ায় সজীব রাখুন। আমিন।
এই ছিলো আমাদের অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে উক্তি এবং কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি। আশা করছি আপনাদের সব পছন্দ হয়েছে।