১০০+ বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের গানের ক্যাপশন বাংলা ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের গানের ক্যাপশন মানে শুধু একটি লাইনের ব্যবহার নয়, বরং গভীর ভাবনার প্রকাশ। রবীন্দ্রসংগীতে প্রেম, প্রকৃতি, ঈশ্বরভাবনা, বিরহ, আনন্দ ও মানবিক অনুভূতি খুব সূক্ষ্মভাবে উঠে আসে। তাই এসব গানের ক্যাপশন মানুষের মনের কথা নীরবে বলে দেয়। একটি ছোট লাইনও অনেক সময় জীবনের অনুভব, অপেক্ষা বা আত্মিক শান্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।

কবি রবীন্দ্রনাথের গানের ক্যাপশন

আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো। তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ নাই কিছু নাই গো। যদি সুখ চাও তবে হাসিমুখে চাও, আমি সবটুকু বেদনা একাই সয়ে নেব।

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম, নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমা নিশীথিনী সম। মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী সম। এই হৃদয়ে তোমার আসন পাতা রবে চিরকাল, কোনোদিনও তা ফিকে হবে না।

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না? কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না? মোহ মেঘে তোমারে অন্ধ করে রাখে, আমি শুধু চেয়ে থাকি তোমার ওই মায়াবী মুখের একটুখানি পানে।

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়। ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়? আয় আর-একটি বার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়। মোরা সুখে দুখে মেতে রব চিরকাল এই নিভৃতে।

ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে। আমার যে গান গেয়েছি আমি সেই গানের সুরে আমায় খুঁজে নিয়ো। তোমার স্মৃতিতে আমি অমর হয়ে থাকতে চাই জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে, আমার সুরগুলি পায় চরণ, আমি পাই নে তোমারে। বাতাস বহে মরি মরি, আর কতকাল পথ চেয়ে রব তোমার তরে? আমার গানের তরী তোমায় খুঁজে বেড়ায় অনন্তকাল ধরে।

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি। আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি। কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই, কোন মাঠে যে ছুটে বেড়াই সকল কাজ ফেলে আজ শুধু খেলা।

আমার মনের কোণেতে ওই কে গো গুণগুণিয়ে গায়, কে আসে যায় দেখা না পায়। তার অস্ফুট কণ্ঠের সুর আমার প্রাণে এক গোপন দোলা দিয়ে যায়। চিনি নে তারে, তবু মনে হয় সে আমার কত চেনা।

সখী, ভাবনা কাহারে বলে? সখী, যাতনা কাহারে বলে? তোমরা যে বলো দিবস-রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’— সে কি কেবলই যাতনা? যদি ভালোবাসা মানেই হয় চোখের জল, তবে কেন এই ব্যাকুলতা, কেন এই বৃথা পথ চেয়ে থাকা?

আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে, এই মাতাল সমীরণে। কেন আমি একা ঘরে বসে আছি? যার তরে এই মনের ব্যাকুলতা, সে কি আসবে না আজ এই মায়াবী জোছনা ভেজা রাতে আমার মনের সব কথা শুনতে?

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে। চুকিয়ে দেব বেচাকেনা, মিটিয়ে দেব গো সব লেনা দেনা। তবু আমায় মনে রেখো, যদি দূরে যাই চলে কোনো এক অজানা দেশের টানে।

তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে, যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নব প্রেমজালে। যদি পাশে নাই থাকি, তব স্মৃতিটুকু যেন তোমার মনের কোণে দীপশিখার মতো জ্বলে থাকে চিরকাল, ম্লান হয়ে না যায় কোনোদিন।

তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো পাশে আমায় রে। আজ কাজ নেই মোর কোনো, কাজ ফেলেছি সারা বেলা ধরে। তোমার চোখের পানে চেয়ে কাটুক আমার এই অলস দুপুর, যেখানে শুধু আমি আর তুমি থাকব নীরবতার সবটুকু ভাষা নিয়ে।

ভালোবেসে যদি সুখ নাহি পাও, তবে কেন মিছে ভালোবাসো? কেন মিছে নয়নজলে ভাসো? যদি প্রেম দিলে না প্রাণে, তবে কেন এই গান গাও মিছে মিছে? হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে যদি কাউকে নাই পাওয়া যায়, তবে সেই বিরহই পরম।

তোমার সাথে জোছনা রাতে আজ কি কথার ছিল বাকি? সেই কথাটি মনে করে একলা বসে জাগছে দুটি আঁখি। বাতাসের মায়ায় তোমার গলার সুর যেন ভেসে আসে বহুদূর থেকে। আমার প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার সেই না বলা কথাগুলো বাজে।

আমি তোমার প্রেমে হবো সবার কলঙ্কভাগী, আমি সকল দাগে হব দাগি। তোমার হাসির তরে আমি সবটুকু অপবাদ মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। এই পৃথিবীর সব শাসন আর বারণ তুচ্ছ মনে হয় যখন আমি তোমার ওই চোখের মায়ায় হারাই।

হৃদয়ের এ কূল ও কূল দু কূল ভেসে যায় গো, সাজিয়ে তরণী আমি বসে আছি একলা একা। ঢেউয়ের দোলায় মন আজ উদাস হয়ে যায়, কার পানে চেয়ে আমার এই তরী বাইব জানি না। শুধু জানি তোমায় না পেলে সবটুকুই বৃথা।

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে। আমি সব সীমানা ছাড়িয়ে আজ হারাব ওই নীল দিগন্তে। যেখানে শুধু গান আছে, সুর আছে আর আছে এক অজানা মুক্তির আনন্দ যা আমাকে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে।

See also  সেরা ১০০টি নদী নিয়ে ক্যাপশন ইংলিশ ২০২৬

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান, তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় আমার এই প্রাণ। আমার মনের আগুন লেগেছে আজ বসন্তের রাঙা রঙে। আমার সবটুকু চঞ্চলতা মিশে যাক ওই পলাশ আর শিমুলের বনে, যেখানে ভালোবাসা কেবলই এক রঙিন স্বপ্নের মতো।

তুমি ডাক দিয়েছ কোন্ সকালে কেউ তা জানে না। আমার মন যে কাঁদে সেই সকালের সন্ধানে। পথের বাঁকে বাঁকে তোমার ছায়া খুঁজি, কিন্তু দেখা পাই নে কেন? তোমার ওই নীরব আহ্বানে আমি সব কাজ ফেলে ছুটে যেতে চাই অজানার পথে।

কবি রবীন্দ্রনাথের গানের ক্যাপশন

জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো। সকল মাধুরী লুকায়ে যায় গীতসুধায় এসো। কর্ম যখন প্রবল আকার ধারণ করে আমায় ঘিরে ফেলে, তখন তোমার ওই শান্ত সুধাসম তলে আমায় একটুখানি আশ্রয় দিয়ো। সুরের ছোঁয়ায় আমার সব ক্লান্তি মুছে দিয়ো।

তুমি কোন্ কাননের ফুল, তুমি কোন্ গগনের তারা? তোমায় কোথায় দেখেছি যেন কোন্ স্বপনের পারা। তোমার ওই মায়াবী রূপের ঘোরে আমি দিশেহারা পথিক। কবে কোন জন্ম জন্মান্তরে তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তা আজ বড় মনে পড়ে যায়।

আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে ওগো বিদেশিনী। তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে, তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে। তোমার ওই গভীর আঁখির মায়ায় আমি ঘরছাড়া এক বাউল। সারাক্ষণ শুধু তোমারই সুর আমার বুকের ভেতরে বাজে।

চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে। অন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহি রে। যখন বাইরের সব আলো নিভে যাবে, তখন তোমার ওই হৃদয়ের প্রদীপ জ্বেলে দিয়ো আমার এই আঁধার ঘরে। সুরের মাধ্যমেই আমি তোমায় খুঁজে নেব নিজের মনের গভীরে।

আজি বিজন ঘরে নিশীথরাতে আসবে যদি ওগো বন্ধু, দুয়ার খোলা আছে তোমার তরে। আমি একলা জেগে আছি তোমার অপেক্ষায়, যদি হঠাৎ দেখা দাও ওই মায়াবী চাঁদের আলোয়। আমার সবটুকু অভিযোগ আর অভিমান তখন তোমার চরণে বিলীন হয়ে যাবে।

চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে, উছলে পড়ে আলো। ও রজনীগন্ধা, তোমার গন্ধে গগন হলো ভালো। এমন রাতে সবটুকু মায়া যেন আমাদের ঘিরে ধরেছে। বাতাসের প্রতিটি কম্পন আজ তোমার কথা বলে, আর আমার গান যেন সেই সুরেই ছন্দ খুঁজে পায়।

আমি রূপ সাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ রতন আশা করি। আমার এ কূল ও কূল দু কূল গেল, ওগো কূল পাব না আর। যে রতনের তরে আমার এই ব্যাকুলতা, তাকে যদি না পাই তবে এই অকূল দরিয়ায় ভেসে থাকাই আমার ভবিতব্য।

তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো। ওগো ঘুম ভাঙানিয়া, আমায় তোমার সুরে সুরে ডাকো। সারারাত জেগে আমি তোমার তরে সুর গেঁথে যাই। যখন ভোরের আলো ফুটে উঠবে, তখন যেন আমার এই গান তোমার কানে পৌঁছে যায় সার্থকতা নিয়ে।

আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি, অজানা দেশের বার্তা এনেছি। যে দেশে শুধু ভালোবাসা আর গানের বাস, সেই দেশের মায়া লয়ে আমি আজ তোমার দ্বারে দাঁড়িয়ে। আমায় একটুখানি ঠাঁই দিয়ো তোমার ওই মায়ার আঁচলে, যেখানে সবটুকু শান্তি বিদ্যমান।

ওহে জীবনবল্লভ, ওহে প্রিয়তম, অনেক ভাগ্যে পেয়েছি তোমারে হৃদয়ে মম। এ জনমে আর যেন তোমায় না হারাই, সেই মিনতি করি তোমার চরণে। তুমি আমার জীবনের সেই ধ্রুবতারা, যা আমাকে প্রতিনিয়ত সঠিক পথের দিশা দেখায় অন্ধকারের মাঝেও।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে। এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে। আমার সবটুকু কলুষতা ধুয়ে মুছে সাফ করে দাও তোমার ওই পবিত্র সুরের অগ্নিশিখায়। আমি যেন নতুন করে জন্ম নিতে পারি তোমার ওই অমিয় সুধা পান করে জীবনের শেষ বেলায়।

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে পাই নি তোমায়। দেখা হয় নি তোমায়, তোমার সাথে কথা হয় নি। যেদিন তুমি হঠাৎ সামনে এলে, সেদিন বুঝলাম আমার সবটুকু সাধনা ছিল কেবল তোমার ওই একটি পলক দেখার তরেই। সুরের মাঝে তোমায় পেলাম।

নিশীথরাতের বাদলধারা, আমার এই মনের কথাটি কারে যে বলি। যখন সবাই ঘুমিয়ে মগ্ন, তখন আমার একাকীত্ব তোমার স্মৃতির সাথে কথা বলে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন তোমার কণ্ঠের সুর হয়ে আমার কানের কাছে ফিরে ফিরে আসে বারবার এই নিস্তব্ধতায়।

কাঁদলে তুমি হাসি আমি, হাসলে তুমি কাঁদি। তোমার আমার এই যে বিরহ, সুর দিয়ে তাই বাঁধি। আমাদের এই লুকোচুরি খেলার যেন শেষ নেই। কখনও তুমি কাছে আসো, কখনও বা অনেক দূরে সরে যাও। কিন্তু সুরের এই মায়াজাল আমাদের সবসময় বেঁধে রাখে।

ঝর ঝর বরিষে বারিধারা। হায়, পথভোলা পথিক কোথা যাবে এই নিশীথে। চারিদিকে শুধু ঘন আঁধার আর বৃষ্টির শব্দ। এই দুর্যোগে তুমি কি আমার ভাঙা ঘরে একটুখানি অতিথি হবে? সুরের মায়ায় আমরা দুজনে মিলে রাতটা কাটিয়ে দেব সব ক্লান্তি ভুলে।

See also  200+ মেয়ে নিয়ে ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি ২০২৬

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে? কেন এই মাধবী রাত্রে বাতাস বহে যায় অলস ভাবে? যদি তুমি নাই থাকো আমার পাশে, তবে এই প্রকৃতির সব আয়োজন যেন বড় বেশি শূন্য আর অর্থহীন মনে হয়।

তোমায় নতুন করে পাব বলে হারাই ক্ষণে ক্ষণ। ও মোর ভালোবাসার ধন। হারানো মানেই শেষ নয়, হারানো মানেই নতুন করে আবার ফিরে পাওয়া। সুরের সেই মায়াবী খেলায় আমি তোমায় বারবার খুঁজে পাই আমার প্রতিটি গানের কলিতে আর প্রতিটি কবিতার ছন্দে।

মোর বীণা ওঠে বাজি বাজি, তোমার পরশ মাগি। আমি সকল কাজে তোমার হাসি খুঁজি দিবারাতি। যখনই আমার হাত এই তারে পড়ে, তখনই তোমার ওই মিষ্টি মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তুমি আছো বলেই আমার গানে আজ এমন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

আমার সকল রসের ধারা তোমাতেই মিশে যায়। তুমি আছো আমার প্রাণের প্রতিটি নিশ্বাসে। যখন আমি একা পথ চলি, তখন তোমার ছায়া আমার সাথে সাথে ঘোরে। পৃথিবীর সবটুকু সুন্দর যেন তোমার ওই একটি সামান্য হাসির কাছে পরাজিত হয়ে মাথা নত করে।

কবি রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ক্যাপশন

তুমি বন্ধু, তুমি নাথ, তুমি মোর জীবনসঙ্গী। এ জনমে ও জনমে তোমার চরণে দিয়ো ঠাঁই। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনের সবটুকু পাওয়া আর না পাওয়া শুধু তোমার চরণে সমর্পণ করলাম। তুমি ছাড়া আমার এই পথ চলা বড় বেশি কঠিন আর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে।

আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার, পরাণ সখা বন্ধু হে আমার। আকাশ কাঁদে আকাশ-ভাঙা কান্না, বাতাস হাহাকার করে ফেরে। এমন রাতে তুমি কেমন করে আসবে আমার কাছে? তব আগমনের প্রতীক্ষায় আমি প্রদীপ জ্বেলে বসে আছি আমার এই জীর্ণ কুটিরে।

আমি কান পেতে রই, ওগো তোমার সুরের খোঁজে। আমার এ মন তোমার লগ্ন চিনে নিতে বোঝে। কোন্ সুদূর থেকে তোমার সেই আহ্বান ভেসে আসে, আমি ব্যাকুল হয়ে সেই শব্দের পিছু পিছু ছুটি। আমার প্রতিটি স্পন্দনে আজ কেবল তোমারই জয়ের জয়গান গীত হচ্ছে।

যে ছিল আমার স্বপনচারিণী তারে ধরিতে পারি নি। সে রয়ে গেল আমার মনের গোপনে এক অমর কাব্য হয়ে। মাঝে মাঝে ছায়ার মতো সে আসে আমার গানের সুরে, কিন্তু হাত বাড়ালেই মিলিয়ে যায় কুয়াশার মতো। তবুও তার মায়া আমি ছাড়তে পারি না কোনোদিন।

নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে। হৃদয় তোমারে পায় না চিনিতে, রয়েছ হৃদয়ে হৃদয়ে। তুমি আমার সত্তার এমন এক গভীরে মিশে আছো যে, আলাদা করে তোমায় দেখার প্রয়োজন পড়ে না। আমার প্রতিটি অনুভবে কেবল তোমারই অস্তিত্ব বিদ্যমান চিরকাল।

অনেক দিয়েছ নাথ, আমার এই ক্ষুদ্র পাত্রটি কানায় কানায় ভরে উঠেছে। তবুও কেন আরও পাওয়ার তৃষ্ণা মেটে না? তোমার করুণার শেষ নেই, তোমার সুরের অন্ত নেই। আমি কেবল তোমার চরণে মাথা নত করে ধন্য হতে চাই এই জনমের মতো।

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে কোন্ আবাহন এল আজ? সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আজ প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠো। তোমার ওই মালতী লতার ঘ্রাণে আমার আঙিনা আজ সুগন্ধে ম ম করছে, যেন প্রেমের এক নতুন বার্তা নিয়ে এল।

মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে নাচে তাতা থৈথৈ। সবটুকু দুঃখ আর গ্লানি ভুলে আজ জীবনের তালে তাল মিলিয়ে মেতে উঠি। বিশ্ব চরাচর আজ মেতেছে এক মায়াবী নৃত্যে, যার মূল সুরটি হলো কেবলই আনন্দ আর মুক্তি। এই আনন্দে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।

সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে, ফুলডোরে বাঁধা ঝুলনা। সেই স্মৃতি আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে। বসন্তের সেই বিকেল আর তোমার সাথে কাটানো সেই রঙিন মুহূর্তগুলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আজ সেই দোলনা আছে, কিন্তু তুমি নেই পাশে।

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু। এই যে অবসাদ আমায় ঘিরে ধরেছে, একে তোমার সুরের পরশে দূর করে দাও। আমি যেন আবার নতুন তেজে তোমার পথে চলতে পারি, যেখানে শুধু আলো আছে আর আছে অনন্ত শান্তি ও প্রেম।

তোমারে পাওন সে তো কেবলি ক্ষণিক। কিন্তু তোমারে চাওন সে তো অনন্তকাল। পাওয়ার চেয়ে এই চাওয়ার মধ্যেই বুঝি বেশি সার্থকতা লুকিয়ে আছে। আমার গানের প্রতিটি কলি তাই তোমার বিরহেই বেশি সতেজ আর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিটি বসন্তের সন্ধ্যায়।

আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস। দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ দিন ধরে আমি শুধু তোমারই স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকব। আমার প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার সেই না বলা কথাগুলো গানের সুর হয়ে বেজে উঠবে অনন্তকাল।

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না? আমার হৃদয়-আকাশে কেন মেঘ আসে, কেন তোমারে দেখতে দেয় না? মোহ মেঘে তোমারে অন্ধ করে রাখে, আমি শুধু চেয়ে থাকি তোমার ওই মায়াবী মুখের একটুখানি আলোর পানে।

See also  ১০০+ মধ্যবিত্ত ছেলেদের ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি ২০২৬

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে। চুকিয়ে দেব বেচাকেনা, মিটিয়ে দেব গো সব লেনা দেনা। তবু আমায় মনে রেখো, যদি দূরে যাই চলে কোনো এক অজানা স্বপ্নের টানে।

তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো। ওগো ঘুম ভাঙানিয়া, আমায় তোমার সুরে সুরে ডাকো। সারারাত জেগে আমি তোমার তরে সুর গেঁথে যাই। যখন ভোরের আলো ফুটে উঠবে, তখন যেন আমার এই গান তোমার কানে পৌঁছায়।

অলি বারবার ফিরে আসে, অলি বারবার ফিরে যায়— তবে কেন ফুলটি ফুটে ওঠে না তার মনের মতো করে? আমার এই আকুল আবেদন কি তোমার কানে পৌঁছাবে না কোনোদিন? সুরের মায়ায় আমি তোমায় খুঁজি প্রতিটি বসন্তের ভোরে।

তুমি কোন্ কাননের ফুল, তুমি কোন্ গগনের তারা? তোমায় কোথায় দেখেছি যেন কোন্ স্বপনের পারা। তোমার ওই মায়াবী রূপের ঘোরে আমি দিশেহারা পথিক। কবে কোন জন্ম জন্মান্তরে তোমার সাথে দেখা হয়েছিল, তা আজ বড় মনে পড়ে।

আজি বিজন ঘরে নিশীথরাতে আসবে যদি ওগো বন্ধু, দুয়ার খোলা আছে তোমার তরে। আমি একলা জেগে আছি তোমার অপেক্ষায়, যদি হঠাৎ দেখা দাও ওই মায়াবী চাঁদের আলোয়। আমার সবটুকু অভিমান তখন তোমার চরণে বিলীন হয়ে যাবে।

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়। ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়? আয় আর-একটি বার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়। মোরা সুখে দুখে মেতে রব চিরকাল এই নিভৃত কোণে।

কবি রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ক্যাপশন

ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে। আমার যে গান গেয়েছি আমি সেই গানের সুরে আমায় খুঁজে নিয়ো। তোমার স্মৃতিতে আমি অমর হয়ে থাকতে চাই আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

এমনি করে যায় যদি দিন যাক না, মনকে তবে মিছে কেন ডাক না। সুরের এই ভেলায় চড়ে আমি ভেসে যাব অজানার পানে, যেখানে কোনো সীমানা নেই, কোনো শাসন নেই। শুধু আছে তোমার আর আমার হৃদয়ের এক গোপন মেলবন্ধন।

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান, তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় আমার এই প্রাণ। আমার মনের আগুন লেগেছে আজ বসন্তের রাঙা রঙে। আমার সবটুকু চঞ্চলতা মিশে যাক ওই পলাশ বনে, যেখানে ভালোবাসা কেবলই এক রঙিন স্বপ্নের মতো রঙিন।

ওহে জীবনবল্লভ, ওহে প্রিয়তম, অনেক ভাগ্যে পেয়েছি তোমারে হৃদয়ে মম। এ জনমে আর যেন তোমায় না হারাই, সেই মিনতি করি তোমার চরণে। তুমি আমার জীবনের সেই ধ্রুবতারা, যা আমাকে প্রতিনিয়ত সঠিক পথের দিশা দেখায়।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে। এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে। আমার সবটুকু কলুষতা ধুয়ে মুছে সাফ করে দাও তোমার ওই পবিত্র সুরের অগ্নিশিখায়। আমি যেন নতুন করে জন্ম নিতে পারি তোমার ওই অমিয় সুধা পান করে।

নিশীথরাতের বাদলধারা, আমার এই মনের কথাটি কারে যে বলি। যখন সবাই ঘুমিয়ে মগ্ন, তখন আমার একাকীত্ব তোমার স্মৃতির সাথে কথা বলে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন তোমার কণ্ঠের সুর হয়ে আমার কানের কাছে ফিরে ফিরে আসে।

কাঁদলে তুমি হাসি আমি, হাসলে তুমি কাঁদি। তোমার আমার এই যে বিরহ, সুর দিয়ে তাই বাঁধি। আমাদের এই লুকোচুরি খেলার যেন শেষ নেই। কখনও তুমি কাছে আসো, কখনও বা অনেক দূরে সরে যাও। কিন্তু সুর আমাদের বেঁধে রাখে।

ঝর ঝর বরিষে বারিধারা। হায়, পথভোলা পথিক কোথা যাবে এই নিশীথে। চারিদিকে শুধু ঘন আঁধার আর বৃষ্টির শব্দ। এই দুর্যোগে তুমি কি আমার ঘরে একটুখানি অতিথি হবে? সুরের মায়ায় আমরা দুজনে মিলে রাতটা কাটিয়ে দেব।

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে? কেন এই মাধবী রাত্রে বাতাস বহে যায় অলস ভাবে? যদি তুমি নাই থাকো আমার পাশে, তবে এই প্রকৃতির সব আয়োজন যেন বড় বেশি অর্থহীন।

তোমায় নতুন করে পাব বলে হারাই ক্ষণে ক্ষণ। ও মোর ভালোবাসার ধন। হারানো মানেই শেষ নয়, হারানো মানেই নতুন করে আবার ফিরে পাওয়া। সুরের সেই মায়াবী খেলায় আমি তোমায় বারবার খুঁজে পাই আমার প্রতিটি গানের কলিতে।

মোর বীণা ওঠে বাজি বাজি, তোমার পরশ মাগি। আমি সকল কাজে তোমার হাসি খুঁজি দিবারাতি। যখনই আমার হাত এই তারে পড়ে, তখনই তোমার ওই মিষ্টি মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তুমি আছো বলেই আমার গানে প্রাণের সঞ্চার।

আমার সকল রসের ধারা তোমাতেই মিশে যায়। তুমি আছো আমার প্রাণের প্রতিটি নিশ্বাসে। যখন আমি একা পথ চলি, তখন তোমার ছায়া আমার সাথে ঘোরে। পৃথিবীর সবটুকু সুন্দর যেন তোমার ওই একটি সামান্য হাসির কাছে পরাজিত হয়।

এই ছিলো চমৎকার কিছু কবি রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ক্যাপশন আশা করছি আপনাদের পছন্দ হবে।

Leave a Comment